ভোটের আগে সিঙ্গুর ফের রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। কিছুদিন আগেই এই পরিবর্তনের হটস্পট সিঙ্গুর থেকে ঘুরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পরেই একই মাটিতে সভা করতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জমি আন্দোলনের আঁতুড়ঘর সিঙ্গুর থেকে তিনি কী রাজনৈতিক বার্তা দেন, তা জানতে মুখিয়ে রাজনৈতিক মহল।
সূত্রের খবর, সিঙ্গুরের সভা থেকেই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান-এর উদ্বোধন করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচিতে তাঁর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন ঘাটালের সাংসদ দেব এবং রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। একই সঙ্গে ঘাটাল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন একাধিক মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধি। আজ দুপুর ১টায় সিঙ্গুরের ইন্দ্রখালি মাঠে সভা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গত শতাব্দীর আশির দশক থেকেই এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও বাস্তবে তার রূপায়ণ হয়নি। বছরের পর বছর বর্ষা এলেই বা সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্যার ছবি হয়ে উঠেছিল ঘাটালবাসীর নিত্যদিনের বাস্তবতা। দীর্ঘদিন ধরে এই বঞ্চনা ঘিরেই ক্ষোভ জমেছিল এলাকায়।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত না হওয়ায় বারবার বিজেপির নিশানায় পড়েছে শাসকদল। স্থানীয় স্তরেও অসন্তোষ বেড়েছে। যদিও লোকসভা ভোটের সময় থেকেই প্রকল্প শুরুর আশ্বাস দিয়েছিল রাজ্য সরকার। ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আরামবাগে এক প্রশাসনিক সভা থেকে দেবকে পাশে নিয়ে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেই সময় জানানো হয়েছিল, প্রথম পর্যায়ে ৫০০ কোটি টাকা এবং পরবর্তী ধাপে আরও প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করবে রাজ্য সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাটাল ও পাঁশকুড়া সংলগ্ন একাধিক নদীতে চলছে খননকাজ। তৈরি হবে নতুন ব্রিজ, বসানো হবে জল নিয়ন্ত্রণের গেট—যার ফলে মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অংশকে বন্যামুক্ত করার পথ খুলবে বলেই দাবি প্রশাসনের।
জমি আন্দোলনের স্মৃতি বহন করা সিঙ্গুর থেকেই ঘাটালের বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পের সূচনা—এই রাজনৈতিক সমীকরণ যে ভোটের আগে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।



