নজরবন্দি ব্যুরো: সোমবার সকালে দুই সন্তানকে নিয়ে একাই দুবাই যাচ্ছিলেন অভিষেকপত্নী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মাঝপথেই আটকে দেওয়া হল তাঁকে। দমদম বিমানবন্দরের অভিবাসন দফতরের আধিকারিকরা তাঁকে জানান যে, এই মুহূর্তে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না, বেশ কিছুক্ষণ পরেই বাড়ি ফেরেন তিনি। এরপরেই কয়লা পাচারকাণ্ডে তাঁকে তলব করে ইডি। চলতি সপ্তাহেই রুজিরাকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রথমে বিদেশ সফরে বাধা, পরে তলব নোটিশ! নতুন করে শোরগোল ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে!
আরও পড়ুন: রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও বিদেশ যাত্রায় বাধা, বিমানবন্দরে আটকানো হল রুজিরাকে


এবার এই প্রসঙ্গ আরও উস্কে দিয়েই সাংবাদিক সম্মেলনে ইডিকে অমানবিক বলে দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে সোমবার দুপুরে ওড়িশা রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এভাবে কেউ আটকায়? এটা খুব অমানবিক কাজ করেছে ইডি। আমরা সকলেই জানি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দিয়েছিল যে, রুজিরা দেশের বাইরে যেতে পারবে। কিন্তু যাওয়ার আগে ইডিকে জানতে হবে। আর তাই রুজিরা আগে থেকেই জানিয়েছিল। কিন্তু তাও শেষ মুহূর্তে ওকে আটকানো হল।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ও পাঞ্জাবী মেয়ে। রুজিরার মা খুব অসুস্থ। ওঁর বাইরে যাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে সুপ্রিম কোর্ট পারমিশন দিয়েছে, সেখানে ইডি যেতে দিল না। উল্টে রুজিরাকে নোটিস ধরিয়ে দিল। আর নোটিশে বলা হল ৮ তারিখে তুমি এসো। এটা কি অমানবিক না? কোথায় না মানুষকে সাহায্য করবে, সেটা না করে পরিবর্তে কীভাবে দানব দৈত্যগিরি করা যায় সেই দিকেই নজর। এত মানুষ প্রাণ হারাল, তাতে কোনও লজ্জা নেই, সমবেদনা নেই। আর এদিকে, ইডিকে দিয়ে অমানবিকভাবে কাজ করিয়েই চলছে।



প্রসঙ্গত, সোমবার সকালেই রুজিরাকে কলকাতা বিমানবন্দরে আটকানো হয়। এরপরেই কয়লাপাচার মামলায় ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করল ইডি। চলতি সপ্তাহেই তাঁকে সিজিও কমপ্লক্সে হাজিরা দিতে হবে বলে খবর সূত্রে। জানা যাচ্ছে, আগামী ৮ জুন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইডি দফতরে অর্থাৎ সিজিও কমপ্লেক্সে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও কয়লাপাচার মামলায় তলব করা হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ছোট্ট সন্তানকে কোলে নিয়েই সিজিও কমপ্লক্সে এসেছিলেন তিনি। টানা ৬ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে আসেন রুজিরা।
ED অমানবিকভাবে কাজ করছে, কড়া প্রতিক্রিয়া মমতার








