নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভোটে জিতে নন্দীগ্রামে কুঁড়েঘর বানাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! চলছে নবান্ন দখলের লড়াই। প্রথম দফার পর যুযুধান প্রতিপক্ষ তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়েই দাবি করেছে তারাই পেতে চলেছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন প্রথম দফাতেই খেলা হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন প্রথম দফার ৩০ আসনের মধ্যে ২৬ আসন এক্কেবারে নিশ্চিত! এবার দ্বিতীয় দফার ভোট আসন্ন। হটসিট নন্দীগ্রাম। মুখোমুখি ভূমিপুত্র বনাম বাংলার মেয়ে। শুভেন্দু জানিয়ে দিয়েছেন তিনি নিশ্চিত জয়ের ব্যাপারে। হাফ লাখ ভোটে হারাবেন প্রাক্তন নেত্রীকে। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিন্তিত মার্জিন নিয়ে। তৃণমূলের বিশ্বাস অন্তত ১ লক্ষ ভোটে জয়ী হবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই অবস্থায়, রাজ্যে ফের ক্ষমতায় এলে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (সিএমও) করবেন বলে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রাম নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু ছুটলেন অন্য জেলার প্রচারে।
আর শুধু সিএমও নয়। তিনি নন্দীগ্রামে ‘আন্দোলনের ভূমিকন্যার বাড়ি’ও বানাবেন বলে ঘোষণা করেছেন রবিবার। প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন, গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় আহত হন মমতা। চোট লাগে পায়ে। প্লাস্টার পায়ে, হুইল চেয়ারে বসেই একের পর এক জনসভা করে চলেছেন তিনি। এদিকে চোট পাওয়ার ১৮ দিন পরে রবিবার ফের নন্দীগ্রাম এসেছেন তিনি। রবিবারের বিকেলে প্রথমে রেয়াপাড়ায় বসন্ত উত্সবে অংশ নেন মমতা। পরে বিরুলিয়াতেও একটি জনসভা করেন। আর দুই মঞ্চ থেকেই নন্দীগ্রামে বাড়ি এবং সিএমও বানানোর কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিরুলিয়ার সভা মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”আমার একটা কাজের সিস্টেম আছে। এখনও কালীঘাটে আমার কেন্দ্রে একটা সিএমও আছে। যে কোনও লোক গেল, আমি না-ই বা থাকলাম, তার যে কাজ তারা ওখান থেকে গিয়ে করে নিয়ে আসে। আমাকে তো সব সময় পায় না। কিন্তু আমার সেটআপ আছে। আর নন্দীগ্রাম থেকে আমি জিতে আপনাদের এখানে সিএমও অফিস করে দেব। এবং আপনাদের এখানে আমার নিজস্ব একটা অফিসও থাকবে। আমি চাই কাজগুলো হোক।”
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে কথা উল্লেখ করে রবিবার রেয়াপাড়ার সভা থেকে তিনি জানান, ”আমি এক বছরের জন্য ঘর ভাড়া নিয়েছি। পরে একটা ছোট্ট কুঁড়ে বানিয়ে নেব। ঠিক আমার বাড়ির (কালীঘাটের বাড়ি) রেপ্লিকা। নন্দীগ্রামের মানুষের জন্য এটা আমার উপহার। আমি হয়তো চিরকাল বাঁচব না। কিন্তু ওই বাড়িটা দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে সবাই আসবে। ওটা হবে আন্দোলনের ভূমিকন্যার বাড়ি।”



