নির্বাচনের আবহে ফের জ্বালানি মূল্য নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁকুড়ার ওন্দায় নির্বাচনী সভা থেকে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করলেন—ভোট মিটলেই রান্নার গ্যাসের দাম বাড়াতে পারে কেন্দ্র। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
মঞ্চ থেকে মমতার সরাসরি বক্তব্য, “ইলেকশনের পর আবার সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দেবে।” এমন মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে যখন এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যেই চাপের মুখে মধ্যবিত্ত।
সম্প্রতি রান্নার গ্যাসের দামে একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। মার্চের শুরুতে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছিল। ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম পৌঁছয় প্রায় ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সায়। পরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে ঘরোয়া গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়, ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম হয় প্রায় ৯৩৯ টাকা।
এই পরিস্থিতিতে মমতার মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে—রান্নাঘর থেকে ব্যবসা, সব ক্ষেত্রেই।
তবে অন্যদিকে কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI) কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে, রান্নার গ্যাসের উপর থেকে কর কমানো বা তুলে দেওয়ার জন্য। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের উপর ১৮% জিএসটি তুলে দিলে প্রায় ৩১৭ টাকা পর্যন্ত দাম কমতে পারে। আর গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ৫% কর বাদ দিলে প্রায় ৪৩ টাকা সাশ্রয় হতে পারে গ্রাহকদের।
সব মিলিয়ে, একদিকে রাজনৈতিক বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা, অন্যদিকে কর কমানোর প্রস্তাবে তৈরি হচ্ছে আশার আলো। তবে বাস্তবে গ্যাসের দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রের আগামী সিদ্ধান্তের উপর।



