দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে অবশেষে বাস্তবের পথে গঙ্গাসাগরের স্বপ্নের সেতু। প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রস্তাবিত গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুড়িগঙ্গার তীরে আয়োজিত বিশাল জনসভা থেকে তিনি এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই উদ্বোধন হল পর্যটকদের জন্য তৈরি ১০০ শয্যার ডরমেটরি ‘সাগরকন্যা’, যা সারা বছর গঙ্গাসাগরে আসা লক্ষ লক্ষ পর্যটকের কথা মাথায় রেখেই তৈরি।
এই দিন শুধু সেতুর শিলান্যাসেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর উপস্থিতিতে পিডব্লিউডি এবং Larsen & Toubro Limited-এর মধ্যে চুক্তিপত্র বিনিময় হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুড়িগঙ্গার উপর প্রায় ৪.৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কংক্রিটের সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৬৭০ কোটি টাকা। চার বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য স্থির করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি অংশও শীঘ্রই অধিগ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


গঙ্গাসাগরে ১৭০০ কোটির সেতুর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সোমবারের এই অনুষ্ঠানে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হয়। মোট ৯৬টি সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৯৪ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা। একই সঙ্গে হয় সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান। পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সবুজসাথীর সাইকেল, উপভোক্তারা পান লক্ষ্মীর ভান্ডারের স্যাংশন পত্র। পাশাপাশি রুহিত ভাতা, রূপশ্রী, কন্যাশ্রী ও স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের স্যাংশন পত্রও বিতরণ করা হয়। গোটা অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল মানুষের ঢল—বহু মানুষ এই মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে ভিড় করেন।
প্রশাসনের কর্তারা জানাচ্ছেন, গঙ্গাসাগর সেতু তৈরি হয়ে গেলে কাকদ্বীপের লট-৮ থেকে কচুবেড়িয়া যেতে আর ফেরি বা ভেসেলের উপর নির্ভর করতে হবে না। মুড়িগঙ্গা পারাপারের দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর হবে। এর ফলে গঙ্গাসাগরের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠবে। পর্যটন ক্ষেত্রেই শুধু নয়, এই সেতু স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে বলে মত প্রশাসনের।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই শিলান্যাসকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখনও বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি, তার আগেই এত বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের সূচনা—এ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।


এই সফরে সেতুর শিলান্যাসের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। মেলার পরিকাঠামো, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল ও পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী কপিলমুনির আশ্রমে পুজো দিতে যেতে পারেন বলেও খবর।







