নজরবন্দি ব্যুরোঃ ৭২ ঘন্টা পর কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন সেটা বোঝা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee: সবাই সাধু একথা বলতে পারবো না, সাধু এর মধ্যেই ভূত আছে, দাবী মমতার


তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের যে কোনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার সীমাবদ্ধতা মেপে দেখেন না। তিনি যেভাবে এ রাজ্যে হওয়া সবচেয়ে বড় দুর্নীতির ফাঁস সম্পর্কে সবচেয়ে বড় বক্তব্য রেখেছেন, যেভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন, যেভাবে তিনি বিচার ব্যবস্থা বিজেপি দ্বারা পরিচালিত বলেছেন, যেভাবে তিনি মিডিয়াকে আক্রমণ করেছেন, এমনকি মিডিয়ার ছবি প্রকাশ করবেন বলেছেন। তারপরে তিনি বলেছেন,কালি লাগিয়ে দিলে ধুয়ে নেওয়া সম্ভব। আমি আলকাতরা ছড়িয়ে দিলে সেটা কিন্তু ধোয়ার মেশিন এখনও অবধি আবিস্কার হয়নি। এই ধরনের কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানের গরিমাকে নষ্ট করেছেন। যেখানে মহানায়ক উত্তম কুমারের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গত ৭২ ঘন্টা ধরে মুখ বন্ধ রেখেছিলেন। তিনি স্যোশাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন। তিনি বা তাঁর লোকেরা ফেসবুকে অথবা ট্যুইটারে পোস্ট করে। তিনি সাইলেন্ট ছিলেন। আজকে যেভাবে তিনি একদিকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়দের ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে পর্দাফাঁস হওয়া বিশাল দুর্নীতিকে, লক্ষ লক্ষ বেকার যুবকদের ভবিষ্যত সর্বনাশ হয়ে যাওয়া যে দুর্নীতি, সেখানে তিনি এমন কিছু কথা বলেছেন, তাতে কার্যত নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তার সরকারের নীতি তিনি পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি যার নাম তিনি লোকায়ুক্তের চেয়ারম্যান হিসাবে সুপারিশ করেছেন, সেই জ্যোতির্ময় বাবুর নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁকে সাক্ষী রেখেছেন। এইভাবে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রের দুর্নীতিকে মান্যতা দিয়েছেন। এইভাবে চাকরী দেওয়া যায়, সেভাবে প্রাইভেট অর্গানাইজেশন চাকরি দেয়। কিন্তু এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর জেনে রাখা দরকার, সরকারী চাকরীরত ক্ষেত্রে পরীক্ষা, মেধা, যে আইনত সার্ভিসগুলি রয়েছে, তাঁদেরকে আপনি বুড়ো আঙুল দেখাতে পারেন না।


নদনীগ্রামের বিধায়কের কথায়, এই প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী আতঙ্কিত। এবং তিনি ভয় পেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, মহারাষ্ট্র হয়েছে, ঝাড়খণ্ড হবে, ছত্তিসগড় হবে, তারপর নাকি বাংতলা হবে। তিনি দেখে নেবেন বলেছেন। এরজন্য একাধিক উদাহরণ দিয়েছেন, তাতে মনে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই দুর্নীতিতে এবং তাঁর কোম্পানির সকলেই বুঝে গেছেন আগামী দিনে মানুষের কাছে মাথা উঁচু করে যাওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি বারেবারে বোঝাতে চেয়েছেন এই দুর্নীতির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস যুক্ত নয়।
মুখ্যমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন সেটা বোঝা যাচ্ছে, কটাক্ষ শুভেন্দুর

পুরাতন প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, আমরা সবাই জানি ডেলোর বাংলোতে গৌতম কুণ্ডু এবং সুদীপ্ত সেনকে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করেছেন। আমরা সবাই জানি মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবিগুলো সারদায় টাকায় কারা কিনেছে? মহিলা বলে দায় এড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সোহমের সঙ্গে বাহালায় প্রচারে দেখা গেছে। শুধুমাত্র বেহালা নয়, মধ্যমগ্রামে রথিন ঘোষের হয়ে প্রচার করেছেন। এভাবে সত্য এবং দুর্নীতিকে আড়াল করা যায় না।







