নজরবন্দি ব্যুরোঃ তাঁর কেবিনেট মন্ত্রী ইডি হেফাজতে। অথচ তিনি নীরব কেন? এই ইস্যুতে গত শুক্রবার থেকেই সরব হয়েছিল রাজনৈতিক মহল। এবার তা নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, সবাই সাধু একথা বলতে পারবো না, সাধু এর মধ্যেই ভূত আছে।


এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সারা জীবন আমি রাজনীতি করেছি এই কারণে নয়, ফলটা ভোগ করার জন্য। আমি ছোট্ট বেলা থেকে রাজনীতি করি তার কারণ, আমার একটা ধারণা ছিল রাজণিতি মানেই ত্যাগ। মানুষকে ভালোবাসা। এটাই আমি আমার পিতৃ মাতৃ দেবের কাছ থেকে পেয়েছি। শিক্ষকদের কাছ থেকেও পেয়েছি। কিন্তু বলুন তো, স্কুলের কি সব স্টুডেন্টরা একরকম হয়? হলে যারা এসেছেন, তাঁরা কী একই জামা পড়ে এসেছেন? এক গাছে কলা আপেল ফোঁটে? নাকি এক গাছে আম আর আমড়া হয়? নাকি আলু আর আলুবখরা হয়? আমি কোন অন্যায়কে সমর্থন না করেও, দুর্নীতিকে সমর্থন করা আমার জীবনের নেশাও নয়, পেশাও নয়।

তাঁর সংযোজন, আমি গত ১১ বছর ধরে ১ লক্ষ্য টাকা পার্লামেন্টের পেনশন পাই। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ২ লক্ষ টাকা করে পাই। আমি তো এক পয়সা নিইনি। আমি স্বেচ্ছায় কাজ করি। আজকে আমি সত্যিই দুঃখিত, মর্মাহতও শোকাহত। কিছু চাকরি প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছিল, সিপি(আই)এম এবং বিজেপি তাঁদের নিয়ে রাতায় বসেছিল। আমি আমার তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রীকে নিয়ে গিয়ে তাঁদের অঙ্গে দেখা করি। আমি তখন বলেছিলাম শিক্ষা মন্ত্রীকে এই কটা কেস করে দিন। তাঁরা বলল কতগুলো আইনি পদক্ষেপ রয়েছে। আমি এবারের কেবিনেটে বঞ্চিতদের ছাড়াও লিস্ট বাড়িয়ে দিলাম। আমি পোস্ট তৈরি করে দিলাম।

ইতিমধ্যেই বিজেপির তরফে একই মঞ্চে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায়ের ছবি একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে। স্যোশাল মিডিয়ায় রোল উঠতেই মমতার বার্তা, জেনে শুনে আমি কোনও দিন কাউকে অন্যায় করতে দিইনি। ভুল করার অধিকার আমার রয়েছে। অজ্ঞানে করলেন সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু জ্ঞানত করা অপরাধ। আমি চাই, সত্য সামনে আসুক। সত্য প্রমাণ হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিন। আমার কোনও আপত্তি নেই। আমার ছবির সঙ্গে টাকার পাহাড়ের ছবি দিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে বিরোধীরা। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আচরণে আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি পুজোয় যাই। অর্গানাইজাররা যদি কাউকে স্টেজে আগে থেকে ডেকে রাখে, তাতে আমি কী করতে পারি। তার মানে আমি পুজো প্যান্ডেলে যাব না? যদি কেউ চোর হয়, ডাকাত হয়, তৃণমূল রেয়াত করবে। কিন্তু অযথা আমার গায়ে কালি ছেটানো হলে আমি ছেড়ে কথা বলব না। আমার হাতেও আলকাতরা রয়েছে।


সবাই সাধু একথা বলতে পারবো না, সাধু এর মধ্যেই ভূত আছে, বললেন মমতা

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমি একটা পুজোয় গেছি। তারা আমায় ডেকেছিল। সেখানে কে আছে আমি জানি? পরে শুনলাম পার্থর বন্ধু। কে কার বন্ধু আমার পক্ষে জানা সম্ভব? আমি কারও পয়সায় খাই না। যখন রেলমন্ত্রী ছিলাম, তখন নিজের পয়সায় চা খেতাম। সবাই সাধু একথা বলতে পারবো না। সাধু এর মধ্যেই ভূত আছে। জেনে শুনে আমি কোনো দিন কোনো অন্যায় করতে দেইনি। কোনো মহিলার বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে।সময়ের মধ্যে সতি এর বিচার হোক।সত্যি প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে আমার কোনো কিছু যায় আসে না।







