উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, আর্তজনদের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দিলেন মমতা

গজলডোবায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যে চারজন এবং ভুতনিতেও নৌকাডুবি হয়ে যে দু’জন প্রাণ হারিয়েছেন, সেই পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দক্ষিণবঙ্গের পর বন্যা পরিস্থিতি উত্তরবঙ্গে। লাগাতার বৃষ্টির কারণে দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ একাধিক পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস। বিপর্যস্ত জনজীবন। রবিবার উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছেই উত্তরকন্যায় একটি প্রশাসনিক বৈঠক সারলেন তিনি। এর পাশাপাশি গজলডোবায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যে চারজন এবং ভুতনিতেও নৌকাডুবি হয়ে যে দু’জন প্রাণ হারিয়েছেন, সেই পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার সকালে উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতা ফিরবেন মুখ্যমন্ত্রী।

জানা গিয়েছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁদের পরিবারের একজনের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার ও অন্যজনের হাতে তিন লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন মমতা। এবং, নৌকাডুবি হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের পরিবারকেও দুই লক্ষ টাকা করে দিয়েছেন। এদিনের বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনের সর্বস্তরের আধিকারিককে সতর্ক করে দেন, উৎসবের আবহে কিন্তু বন্যা দুর্গতদের ভুললে চলবে না। ত্রাণের কাজে যেন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

পাশাপাশি, মমতা ঘোষণা করেছেন, শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটে যে ছ’টি দোকান অগ্নিদগ্ধ হয়েছে সেই দোকানগুলি সরকার সারিয়ে দেবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সেই দোকানের মালিকদের এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়াও, যেসব দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের দোকান সারিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পঞ্চাশ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষের জমির জন্য আগেই শস্যবিমার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার মেয়াদ ছিল। কিন্তু এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

উত্তরবঙ্গ সফরের আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে ফের কেন্দ্র সরকারকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ তুলে বলেন, ‘বাংলার বন্যার কেউ খোঁজ নেয়নি, একটা পয়সাও দেয়নি। ফারাক্কায় যদি ড্রেজিং করা হতো, তাহলে আরও ২-৩ লক্ষ কিউসেক জল ধরে রাখা যেত এবং মালদা জেলার বিস্তীর্ণ অংশে এত ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতো না।’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত