ভোটের মুখে এসআইআর (Special Intensive Revision)–এর নামে বাংলায় ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে—এই অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, সংখ্যালঘু ও মতুয়া সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে এবং গণতন্ত্রকে কার্যত স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গাজিয়াবাদ-সহ ভিন্রাজ্য থেকে ভোটার এনে বাংলার ভোটব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাংলায় ৩৩ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছেন। বলুন তো, তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেবেন?” একই সঙ্গে মতুয়াদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
মমতার দাবি, ‘‘বাংলা বললেই বাংলাদেশি বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে।’’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘তথ্যচুরি করছে বিজেপি’। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের তথ্যচুরি করছে। দলীয় নেতাদের জেলে ভরে দিচ্ছে।
এসআইআর বিতর্কে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন অমর্ত্য সেন ও জয় গোস্বামীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদেরও নোটিস পাঠাচ্ছে। “অমর্ত্য সেন, জয় গোস্বামী-র মতো মানুষকে এসআইআর নোটিস পাঠানো হচ্ছে—ভাবতে পারেন!”—বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুলে মমতা বলেন, সীমান্তে বিএসএফ রয়েছে, অনুপ্রবেশ আটকানোর দায়িত্ব কেন্দ্রের। “আসাম, ত্রিপুরাতেও বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। রোহিঙ্গারা ওদিক দিয়ে ঢুকছে। সেটা আপনাদের দেখার কথা। কিন্তু বাংলাকে দোষারোপ করাই এখন লক্ষ্য,”—বলেন তিনি।

দিল্লি থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “সাহস থাকলে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ভাবে লড়াই করুন।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি সারাক্ষণ বাংলায় বসে সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি এমনকি মুখ্যমন্ত্রীকেও বিরক্ত করছে। “এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে যেন সুপার এমার্জেন্সি চলছে,”—কটাক্ষ করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলায় এসআইআর নিয়ে কী হচ্ছে, তা রাজ্যের সংবাদমাধ্যম জানে। কিন্তু সর্বভারতীয় মিডিয়ায় সেই বাস্তব চিত্র উঠে আসছে না। তাঁর অভিযোগ, “সারা দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলা বিজেপির নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই বারবার বাংলাকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা চলছে।”
মমতা বলেন, ‘‘আমরা এখন সব দরজায় কড়া নাড়ছি। সংবাদমাধ্যমও গণতন্ত্রের একটা স্তম্ভ। এসআইআরে আক্রান্তদের নিয়ে এসেছি। আপনারাই দেখুন তাঁদের অবস্থা।’’
ভবানীপুর কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘ভবানীপুরে ৪০ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির বিধানসভা কেন্দ্রে কম নাম বাদ যাচ্ছে। কিন্তু তৃণমূলের বিধানসভা কেন্দ্রে ৮০ হাজার, এক লাখের মতো নাম বাদ দিতে চাইছে কমিশন।’’। সংশ্লিষ্ট ইআরওদের অজ্ঞাতসারেই এই কাজ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।



