নজরবন্দি ব্যুরো: বুধবার বিসর্জনের রাতে বহু মানুষ তলিয়ে গেলেন মাল নদীতে। আরও অনেকে ভেসে গেছেন। কে কোথায় কোনও খোঁজ নেই। রাতের অন্ধকারে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। মালবাজারের ঘরে ঘরে হাহাকার। জানা গেছে রাত ৮টা নাগাদ যখন বিসর্জন চলছে তখনই মাল নদীতে হড়পা বান আসে।
আরও পড়ুন: সুদীপের বদলে সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটির মাথায় লকেট, তীব্র প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের
প্রবল স্রোতে নদীর মধ্যে নামা বহুজন ভেসে যান। হড়পা বানের ছবি দেখে রাজ্যবাসী শিউরে উঠেছেন। জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, উদ্ধার কাজ চলছে। রাতভর চলবে উদ্ধার। NDRF নামবে উদ্ধারে। এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। অনেকেই নদীর মাঝে থাকা স্থলভাগে আটকে রয়েছেন বলে খবর। নিখোঁজ অন্তত ৪০। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মাল নদীর মাঝে একটি চরে উঠে অনেকেই প্রাণ বাঁচান বলে জানা গিয়েছে। এই আবহে উদ্ধারকাজে নামানো হয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পৌঁছে যায় দমকল ও পুলিশও। রাজ্যের মন্ত্রী বুলু চিকবড়াইক ঘটনাস্থলে যান গতকাল রাতেই। বানে ভেসে যাওয়া ১১ জনকে উদ্ধার করে মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানান জলপাইগুড়ির জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু। জেলাশাসক আরও জানিয়েছেন, নদীর চরে আটকে রয়েছেন ২০ জন।

এদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, ‘মালবাজারে হঠাৎ করেই হড়পা বান আসে। এর জেরে নদীর পাশে থাকা ভক্তরা পালানোর সময় পাননি। এই অঞ্চলের হড়পা বানের এটিই বৈশিষ্ট্য। আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে কথা বলব এবং এলাকা পরিদর্শন করব। সমস্ত বিভাগকে সতর্ক করা হয়েছে।’ ইতিমধ্যে এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি।
মায়ের বিসর্জনে আচমকাই মাল নদীতে হরপ্পা বান, মৃত ৮

শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে, বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমি জলপাইগুড়ির জেলাশাসক ও রাজ্যের মুখ্যসচিবকে উদ্ধার প্রক্রিয়া জোরদার করা ও দুর্দশাগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি।’



