রাজ্যের চার কেন্দ্রের বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয়জয়কার! রায়গঞ্জের পর এবার বাগদা জিতল শাসকদল। দীর্ঘ ১৩ বছর পর বাগদা পুনরুদ্ধার করল তৃণমূল। প্রায় ২০ হাজার ভোটে জিতলেন রাজনীতিতে নবাগতা মতুয়া ঠাকুরবাড়ির মেয়ে মধুপর্ণা ঠাকুর। হারিয়ে দিলেন বিজেপির বিনয় কুমার বিশ্বাসকে। এই জয়ের ফলে মধুপর্ণা হলেন বাংলার সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক। এর আগে এই রেকর্ড ছিল প্রয়াত তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের নামে। ১৯৭২ সালে তিনি বিধায়ক হন। ২৫ বছর ১ মাস বয়সী মধুপর্ণা তাঁর চেয়েও কম বয়সে জিতে বিধায়ক হলেন।
২০১১ সালে শেষ বার বাগদা বিধানসভা যেতে তৃণমূল। সেবার জয় পান উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। এরপর ২০১৬ সালে ফের পালাবদল। বাগদা থেকে জেতেন কংগ্রেসের দুলাল বার। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রবেশ করে বিজেপি। পদ্ম প্রতীকে জিতে যান বিশ্বজিৎ দাস। যিনি আবার এই মুহূর্তে তৃণমূলের যোগদান করেছেন বলেই বাগদায় উপনির্বাচন হল। এই বিশ্বজিৎ দাসকে সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ থেকে প্রার্থী করে তৃণমূল। কিন্তু তিনি হেরে যান বিজেপির শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে। সেই অর্থে দীর্ঘ ১৩ বছর পর বাগদা পুনরুদ্ধার করল তৃণমূল।

বাগদা উপনির্বাচনের মধুপর্ণা ঠাকুরের লড়াই ছিল বেশ কঠিন। প্রথমত, বাগদা মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা। দ্বিতীয়ত, দু’বারের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের মতো হেভিওয়েট নেতার প্রভাব। যদিও মধুপর্ণা জানিয়েছেন, জয় তাঁদের সময়ের অপেক্ষা ছিল। সঙ্গে এও বলেছেন, শুধুমাত্র মতুয়ারা নন, বাগদাবাসী সকলে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দু’হাত ঢেলে ভোট দিয়েছেন, উন্নয়নের পক্ষে। মধুপর্ণা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের মেয়ে। ফলে, মতুয়া মুখের সুবিধা ছিল তৃণমূলের পক্ষে। অন্যদিকে, বিজেপির বিনয় মতুয়া ভক্ত হলেও তিনি ঠাকুরবাড়ির সদস্য নন।
এই জয়ের পরে মধুপর্ণা জানিয়েছেন, “আমি শুধু সর্বকনিষ্ঠ বলে ভাবছি না। আমি ভাবছি মানুষের জন্য কত কাজ করা যাবে। বিজেপি মানুষকে ভুল বুঝিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সরকার সাধারণ মানুষের জন্য সবকিছু করেছে। আমি জানতাম এই জয় আসবেই। আমি বাগদার মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
১৩ বছর পর বাগদা পুনরুদ্ধার তৃণমূলের, সুব্রত মুখার্জীর রেকর্ড ভেঙে সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর!

অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী বিনয় কুমার বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, বাগদায় স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোট হয়নি। যদি ভোট হত তাহলে বিজেপি অবশ্যই জিতত! লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই বাগদায় ২০ হাজারের বেশি ভোটে গিয়েছিলেন বিজেপির শান্তনু ঠাকুর। বিধানসভাতেও বিজেপি জিতেছিল। ফলে বিজেপির নিজেদের জেতা আসন ধরে রাখতে পারল না। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মুকুটমণি অধিকারী ৭,২৬৬ ভোটে এগিয়ে আছেন। মানিকতলায় পাঁচ রাউন্ড গণনা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, তৃণমূল প্রার্থী সুপ্তি পাণ্ডে ১৬,৮৩১ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।



