নজরবন্দি ব্যুরোঃ মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা মানা, ফেসবুক লাইভে গান গেয়ে আলোয় আলোয় মুক্তি খুঁজছেন মদন বহুকাল পর ভোটে লড়েছেন, জিতেছেন বহু ব্যবধানে। তবে নির্বাচন কাল থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। প্রথমে করোনা ধরা পড়ে, সেখান থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে কাজে ফেরার আগেই শুরু হয় নারদ-নাটক। হঠাত করে এক সকালে নারড কান্ডের ঘুষের দায়ে ফিরহাদ-সুব্রত-শোভনের মতোই বাড়ি থেকে বিনা নোটিসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।
আরও পড়ুনঃ মুখ্যসচিব বাঙালি বলেই কি এত রাগ? মোদীকে তুলোধনা মমতার।
তার পর জামিন, জামিনে স্থগিতাদেশ-প্রেসিডেন্সি এবং সেখা থেকে SSKM। দিন কয়েক উডবার্ণে থাকার পরে আপাতত সুস্থ। ফিরেছেন নিজের ছন্দে। আর তার পরেই চিরাচরিত ভাবে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসেছেন মদন মিত্র। গত কয়েকদিন জামিন হবে কী হবে না চিন্তায় কেটেছে, তার মধ্যেই শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে SSKM-এ গিয়ে ধরা পড়ে গলায় টিউমারের অস্ত্বিত্ব। বাকি সঙ্গীরা আগে ঘরে ফিরতে পারলেও চিকিৎসকদের তত্বাবধানে থাকতে হয়েছে তাঁকে। গতকাল মদন-পুত্র জানিয়েছিলেন আগের থেকে ভাল আছেন, তবে টিউমারের জন্য চিকিৎসা চলছে।

তবে আগের থেকে কিছুটা সুস্থ বোধ করার আজ হাসপাতাল থেকেই কদিনের বিরতির পর ফেসবুক লাইভে এসেছেন তিনি। জামিনের খুশির আনন্দ বহিঃপ্রকাশে প্রথমেই জানিয়েছেন, ‘তিনি মুক্ত’ দেশের ১৩০ কোটি মানুষের মতোই সাধারণ নাগরিক তিনি, মুক্তির আনন্দে লাইভে গান গান, ‘এই আকাশে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়…’ কিছু পরে ফে গান ধরেন, ‘ক্লান্তি আমায় ক্ষমা কর প্রভু…’
লাইভ থেকেই মদন মিত্র জানিয়েছেন এখন মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলায় বাধা আছে তাঁর, কিন্তু নিজের সঙ্গে নেই! তাই লাইভে এসে নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলছেন। এতে মন ভালো থাকে। জানিয়েছেন ক্লান্তি, হতাশা, ভেঙে পড়ার মুহুর্তে ফেসবুক, ফোন বা সমস্তরকম ভাবে যাঁরা খবরা খবর নিয়েছেন, পাশে থেকেছেন তাঁদের সকলে ধন্যবাদ। সঙ্গে বারবার ধন্যবাদ-কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আইন ব্যবস্থা, আইনজীবী এবং তাঁকে সুস্থ করে তুলেছেন যাঁরা সেইসব চিকিৎসকদের।
মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা মানা, তবে আগামীকাল ছুটি পেয়েই কোথায় যাবেন, কাজের পরিকল্পনা কী সেসব ব্যপারেও বলেন লাইভেই। প্রসংসা করেন দলের সহযোদ্ধাদের। আমফানের সময়ে সকলে যেভাবে কজা কছেন তা দেখে আপ্লুত তিনি। সঙ্গে উল্লেখ করেছেন গতকাল তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন সোহম-রাজ-লাভলি মৈত্ররা। তাঁদের কাজের প্রসংশাও করেন মদন মিত্র। আপাতত তিনি অপেক্ষা করছেন ঘরে ফেরার। ততক্ষণ নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলে কাটিয়ে দেবেন বাকি সময় টুকু।



