নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যে চালু হচ্ছে লোকাল ট্রেন পরিষেবা। মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে বহুদিন আগে থেকেই মেট্রো রেল পরিষেবা চালু করেছে রাজ্য। এবার সেই মডেলকেই সামনে রেখে ট্রেন পরিষেবা চালু করতে উদ্যোগী রাজ্য। সকাল, সন্ধে নির্দিষ্ট সংখ্যায় ট্রেন চালানোর প্রস্তাব দিয়ে শনিবার রাতে রেলকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, তাতে সাড়া দিয়ে সোমবার নবান্নে এ নিয়ে আলোচনা করতে আসেন রেলকর্তারা। কোন পদ্ধতি মেনে ট্রেন চালানো হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুনঃ রাজনীতি থেকে অবসর নেব কিন্তু বিজেপির সাথে জোট করব না! ঘোষণা মায়াবতীর।


রাজ্য এবং রেল উভয়েই নিজের নিজের প্রস্তাব দেয়। তার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের কথা হয়েছে। সোমবার রেলের তরফে জানা গিয়েছে, কয়েকজন অফিসার নবান্নে আসেন সোমবার বিকেলে। সেখানে ছিলেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব। রাজ্যের প্রস্তাব, এই মুহূর্তে কলকাতা মেট্রো পরিষেবা যেভাবে চলছে, তাকে মডেল করেই সকাল-সন্ধে কয়েকজোড়া ট্রেন চালানো হোক।
জানা গিয়েছে একটি লোকাল ট্রেনে আসন সংখ্যা ১২০০ সেখানে ৬০০ জন আপাতত যাতায়াত করতে পারবেন। প্রত্যেকে থার্মাল গানের মুখোমুখি হতে হবে। শরীরে জ্বর থাকলে ওঠা যাবে না ট্রেনে। লোকাল ট্রেনে চড়তে গেলে বাধ্যতামূলক ভাবে পরতে হবে মাস্ক। রেলওয়ে চেষ্টা করছে মেট্রোরেলের মতই ই টিকিট এবং স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে টিকিট কাটার সুবিধা দেওয়ার ব্যাবস্থা করা হতে পারে। আগামি ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে রেল। বৃহস্পতিবার জানিয়ে দেওয়া হবে কবে কত সংখ্যায় চলবে ট্রেন।
আলোচনায় উঠে এসেছে সাধারন ভাবে যা লোকাল ট্রেন চলে তা চালান সম্ভব নয়। প্রাথমিক ভাবে ১০% ট্রেন চালানো হবে। রেল ৭২ ঘন্টা সময় চেয়েছে প্রস্তুতির জন্যে। জানা গিয়েছে কালীপুজার পর ২৫ শতাংশ লোকাল ট্রেন চালানো হবে। আসলে নিউ নর্মালে কলকাতা মেট্রোয় অ্যাপের মাধ্যমে বিশেষ ই-পাস সংগ্রহ করে যেভাবে যাত্রীরা রোজ যাতায়াত করছেন, সেই পদ্ধতি মূলত রাজ্য সরকারেরই জনা কয়েক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর মস্তিষ্কপ্রসূত। এই পদ্ধতিতে মেট্রো পরিষেবা যেমন নিরাপদ এবং দ্রুত চলছে, দৈনিক ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রেও তেমন কোনও ভাবনা ভাবা যেতে পারে বলে প্রস্তাব রাজ্যের। আনলক ৫ পর্বে এ রাজ্যে শুধুমাত্র রেলকর্মীদের জন্য বিশেষ ট্রেন চলছে।


জরুরি পরিষেবার কাজে যুক্ত সাধারণ যাত্রীদের সেই ট্রেনে ভ্রমণের কোনও অনুমতি নেই। কিন্তু কাজে যাওয়ার জন্য সেই ট্রেনে উঠতে চেয়ে আরপিএফের অমানবিক আচরণের মুখে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। যার জেরে কখনও হাওড়া, কখনও হুগলি, কখনও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্টেশনে তুমুল অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছে সম্প্রতি বেশ কয়েকবার। সেসব থেকে রাজ্যের প্রস্তাব, এধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে যাত্রীদের জন্য সকালে এবং সন্ধেয় কয়েকজোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হোক।







