নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাড়ির বদলে মর্গে যাচ্ছেন মইদুল, নিজেদের হকের লড়ায়ে নবান্নের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলো রাজ্যের বাম যুব ছাত্ররা। বেকারত্ব, ধর্মীয় হানহানির প্রতিবাদে স্লোগান তুলেছিল নবান্নের সামনে। দেখা করতে চেয়েছিলেন মাননীয়ার সঙ্গে। দেখা মেলেনি, কিন্তু মাননীয়ার পুলিশ তাঁদের দেখা করিয়েছিলেন রাজ্যের বাস্তবের সঙ্গে। লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, জল্কামান সবকিছুতে দাবিয়ে দিতে চেয়েছিলেন হাজার হাজার গলার আওয়াজ। পুলিশের ভ্যানে করে ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন একাধিক ছাত্রনেতাদের। পুলিশের লাঠিচার্জে অসুস্থ অনেকে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আজ সকালেই কার্ডিয়াক আরেস্টে প্রান হারান বাঁকুড়ার মইদুল ইসলাম মিদ্যা।
আরও পড়ুনঃ দলত্যাগ করেই রাজীব বুঝছেন, তৃণমূল জন্ম দিয়েছে অদ্ভুত এক সংস্কৃতির।


বাঁকুড়ার মইদুল গত ১১ তারিখেনবান্নে এসেছিলেন নিজেদের দাবিদাওয়া জানাতে। পেশায় টোটো চালক মইদুলের পরিবারে আছে মা,স্ত্রী,এবং দুই সন্তান। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মইদুল ১১ তারিখ থেকেই অসুস্থ। অবস্থার অবনতি হলে নিয়ে আসা হয় কলকাতার এক বেসরকারি নার্সিংহোমে। সেখনাএই আজ সকালে মারা যান বছর ৩১ এর মইদুল। কার্যত বাড়ির ছেলেকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। ভেঙে পড়েছে মইদুলের গোটা পরিবার।বাম ছাত্রনেত্রী মিনাক্ষী জানান, আহত হওয়ার পরই মইদুল বলেছিলেন বাড়ি নিয়ে যেতে তাঁকে। নিয়ে যাওয়া হলনা। পাঠাতে হচ্ছে মর্গে। কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা।
অন্যদিকে রাজ্যের পুলিশের এই বর্বরোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে আগামী কাল মঙ্গলবার গোটা রাজ্য জুড়ে থানা ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছে বাম যুব ছাত্ররা। লাইফলাইন হাসপাতলের সামনে দাঁড়িয়ে SFI এর রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভাট্টাচার্য্য জানান ‘ প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে আজ এবং আগামী কাল গোটা রাজ্য জুড়ে থানা ঘেরাওয়ের পসদক্ষেপ নিয়েছি আমরা।’
বাড়ির বদলে মর্গে যাচ্ছেন মইদুল, ময়না তদন্তের পর মইদুলের দেহ আনা হবে বিকেলে এন্টালি কর্পোরেশনের গ্যারাজের সামনে SFI-DYFI এর রাজ্য দপ্তরে। ইতমধ্যেই সেলখানে জমায়েতের ডাক দিয়েছেন বাম ছাত্র সঙ্গথম্ন গুলি। সেখান থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হতে পারে লালবাজারে। ক্ষোভে ফেঁটে পড়ছে গোটা রাজ্য। পুলিশের লাঠির আঘাতে মৃত্যুর প্রতিবাদে আগামী কাল সারাদিন ধরে পুলিশ স্টেসন ঘেরাও করবেন বাম ছাত্ররা।









