আইএসএফের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট এবং ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে চিহ্নিত হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক—এই দুই ইস্যুতেই কার্যত ফেটে পড়ল বামফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার আলিমুদ্দিনে বামফ্রন্টের বৈঠকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশ্ন তোলে শরিক দলগুলি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, বৈঠকের মাঝপথেই ক্ষোভ জানিয়ে বেরিয়ে যান ফরওয়ার্ড ব্লকের শীর্ষ নেতৃত্ব।
বামফ্রন্টের বৈঠকে সিপিএম রাজ্য সম্পাদকের ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে তীব্র আপত্তি তোলে ফরওয়ার্ড ব্লক, সিপিআই এবং আরএসপি। তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর-এর সঙ্গে কেন দেখা করতে গিয়েছিলেন সেলিম—এই প্রশ্ন সরাসরি তোলা হয়। সিপিআইয়ের কেন্দ্রীয় নেতা প্রবীর দেব এবং আরএসপির রাজ্য সম্পাদক তপন হোড় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই সাক্ষাৎ জনমানসে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বার্তা দিয়েছে। কোনও ব্যাখ্যাই তাঁরা মানতে রাজি নন বলে বৈঠকেই জানিয়ে দেন।
এর পাশাপাশি আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়ে সিপিএমের আগ্রহেরও তীব্র বিরোধিতা করেন ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চ্যাটার্জী। তাঁর বক্তব্য, “আমরা শুধু বামফ্রন্টগতভাবে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চাই। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে মুখ পুড়েছে। এখন আবার আইএসএফ—এভাবে লাফালাফি করলে বামপন্থীদের উপর মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে।” এই ক্ষোভ প্রকাশ করেই বৈঠকের মাঝপথে নরেন চট্টোপাধ্যায় ও সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বৈঠক ত্যাগ করেন।
এদিনের বৈঠকে কংগ্রেস প্রসঙ্গেও চূড়ান্ত বার্তা আসে। হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একাই লড়বে—এ কথা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা কার্যত শেষ। তবু তার পরেও আইএসএফ নিয়ে সিপিএমের তৎপরতায় বামফ্রন্টের শরিক দলগুলি যে একেবারেই স্বস্তিতে নেই, তা বৈঠকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আসন সমঝোতা নিয়েও চাপানউতোর কম হয়নি। ফরওয়ার্ড ব্লক দাবি করেছে প্রায় ৩০টি আসন, আরএসপি চেয়েছে প্রায় ২৩টি এবং সিপিআই দাবি করেছে ২০টি আসন। শরিকদের স্পষ্ট বার্তা—বামফ্রন্টের বাইরে গিয়ে কোনও আলাদা রাজনৈতিক পরীক্ষানিরীক্ষা চলবে না।
হুমায়ুন ইস্যুতে প্রশ্নের মুখে পড়ে সেলিম যুক্তি দেন, তিনি কেবল ‘মন বোঝার জন্য’ দেখা করেছিলেন, কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু-এর উপস্থিতিতেই শরিক নেতারা সাফ জানিয়ে দেন—কংগ্রেস নয়, আইএসএফ নয়, হুমায়ুনের সঙ্গেও কোনও যোগাযোগ নয়। এই তিনটি বিষয়েই আপসহীন অবস্থান নিয়েছে শরিক দলগুলি।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন আলিমুদ্দিনে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেও সেলিমের হুমায়ুন সাক্ষাৎ নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন দলের একাধিক নেতা। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বিতর্কে জল ঢালার চেষ্টা হলেও, হুমায়ুন প্রসঙ্গে সরাসরি কোনও অবস্থান না নেওয়ায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।



