জোটের অঙ্কে বাড়ছে চাপ, হুমায়ুন বিতর্কে বাম শিবিরে টানাপড়েন, নওশাদের নতুন চাল

হুমায়ুন বিতর্কে শরিকদের অসন্তোষ, আইএসএফের ৫০ আসনের দাবি—ভোটের আগে বাম শিবিরে জোট সমীকরণ জটিল, পরিস্থিতি সামলাতে সক্রিয় বিমান বসু।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোট যত এগোচ্ছে, ততই জোট রাজনীতির সমীকরণ জটিল হয়ে উঠছে বাম শিবিরে। হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিতর্ক, শরিকদের অসন্তোষ এবং আইএসএফের বাড়তি আসন দাবি—সব মিলিয়ে বামফ্রন্টের অন্দরেই তৈরি হয়েছে চাপা অস্থিরতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।

সাম্প্রতিক সময়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বৈঠক ঘিরে দলের অন্দরেই বিক্ষোভের সুর শোনা যায়। কয়েকদিন আগে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে সেলিমকে এই বৈঠক নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বামফ্রন্টের শরিক দলগুলিও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে। সূত্রের খবর, আলিমুদ্দিনে সেই বৈঠক ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে শরিকদের অসন্তোষ মেটাতে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। প্রয়োজনে বড় শরিক সিপিএম শরিকদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও বসতে পারে বলে জানা গিয়েছে। শরিকদের অভিযোগ, হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠকের ঘটনায় ভোটারদের কাছে বামেদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, আইএসএফকে নিয়ে আসন সমঝোতার অঙ্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফরওয়ার্ড ব্লক-সহ কয়েকটি শরিক দল আইএসএফকে অতিরিক্ত আসন ছাড়তে নারাজ। কিন্তু আইএসএফ আগের তুলনায় বেশি আসনে লড়ার দাবি জানিয়েছে। সূত্রের খবর, নওশাদ সিদ্দিকীর দল প্রায় ৫০টি আসনে প্রার্থী দিতে চায়। এই দাবি মানতে হলে বামফ্রন্টকে গোটা সমীকরণ নতুন করে সাজাতে হবে।

সিপিএম ২২ ফেব্রুয়ারিকে ডেডলাইন ধরে এগোচ্ছে। ওই সময়ের মধ্যেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে চাইছেন সেলিম ও সুজন চক্রবর্তী। ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্য কমিটির বৈঠকেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে দলের অন্দরেই আলোচনা চলছে।

যদিও বামেরা হুমায়ুনের থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছে, আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী এখনও তাঁর সঙ্গে আলোচনার রাস্তা খোলা রেখেছেন। আইএসএফের রাজ্য কমিটির বৈঠকেই হুমায়ুন ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত