পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে সরাসরি হুমকি দিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা। ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইসলামাবাদ যদি কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে বা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জঙ্গি সংগঠনটি। এই হুমকিকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে।
লস্কর নেতা সইফুল্লা কাসুরি প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যে নেতা ইজ়রায়েলকে স্বীকৃতি দেবে বা সম্পর্ক গড়বে, তাকে খুন করা হবে। ধ্বংস করে দেওয়া হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে ইসলামাবাদে।


সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ফের সামনে এসেছে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর প্রসঙ্গ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন, আরও বেশি মুসলিম দেশ ইজ়রায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলুক। সেই আবহেই পাকিস্তানের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মূল লক্ষ্য হল ইজ়রায়েলের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। শুধু কূটনৈতিক স্বীকৃতিই নয়, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার পথও খুলে দেয় এই চুক্তি। তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই প্যালেস্তাইনের সমর্থনে সরব ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী, স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র গঠনের আগে ইজ়রায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে ট্রাম্পের প্রস্তাব ইসলামাবাদের কাছে বড় রাজনৈতিক ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


একদিকে পাকিস্তানের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজ়রায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলে ভূরাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা পেতে পারে পাকিস্তান। অন্যদিকে দেশের ভিতরে তীব্র জনরোষ ও মৌলবাদী সংগঠনগুলির বিরোধিতার আশঙ্কাও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার পক্ষে নন। তাঁর বক্তব্য, “এই চুক্তি পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শের বিরোধী।” একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, গত ৭৮ বছরে পাকিস্তান কখনও ইজ়রায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাপ— এই তিনের মাঝে পড়ে এখন কঠিন ভারসাম্যের লড়াইয়ের মুখে পাকিস্তান সরকার।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



