নজরবন্দি ব্যুরোঃ মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ এর মামলা নিয়ে গতকালই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিধানসভা। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় গতকালই জানিয়ে দিয়েছেন মুকুল রায় বিজেপি বিধায়ক তাই খারিজের প্রশ্ন ওঠেনা। গতকাল বিমানবাবু এই বিষয় নিয়ে আরও জানান, “পিটিসনার যা বলেছিলেন সেই মতো প্রমাণ পেশ করতে পারেননি, তাই তাঁর দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যপালের টুইট ঘিরে ধুমধুমার রাজ্য রাজনীতিতে, সন্দেহ বিধানসভা ভেঙে দেবার


যার অর্থ মুকুল রায় দল ত্যাগ করেছেন তা প্রমানিত হয়নি”। বিধানসভা ভোটে কৃষ্ণনগরের উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপি-র টিকিটে জিতে আসা নেতা মুকুল রায় এখনো বিজেপিতে রয়েছেন। তিনি তৃণমূলের যাননি। আর এরপর থেকেই তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ একের পর এক আক্রমণ করে চলেছে মুকুল রায় কে। গতকাল এই মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কুণাল ঘোষ টুইট করেন বলেন,

“সারদা ও নারদা মামলায় সিবিআই গ্রেপ্তার করুক বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে। আমি ইতিমধ্যেই মুকুল রায়ের সঙ্গে যৌথ জেরারা জন্য CBI ও ED-র আছে চিঠি দিয়েছি। তিনি একজন প্রভাবশালী ষড়যন্ত্রী। তিনি তার ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন দল কে ব্যবহার করেছেন”। এই ট্যুইটের পর আজ শনিবার কুণাল ঘোষ ফের মুকুল রায় কে আক্রমণ করলেন। আজ তিনি বেনজির ভাবে বলেন, “মুকুল রায় চূড়ান্ত কুৎসা করেছেন দিদি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সোম, বুধ, শুক্র বিজেপি করেছে। ও একটি সেয়ানা পাগল। শৃঙ্খলাবদ্ধ সৈনিকের মতো মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে বসেছি। আমি তৃণমূলের বিরুদ্ধে কিছু বলছি না।”



কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “আমি মনে করি মুকুল রায়কে সারদা-নারদা মামলায় গ্রেফতার করে তদন্ত হোক। আদালত যেতে হয়নি মাঝে৷ এখন যেতে হচ্ছে। আমি আদালতে মামলা মাথা উঁচু করে লড়ছি। আমার রাগ হয়েছে। আমি তাই সিবিআই, ইডিকে বলেছি চিঠি দিয়ে। ও তো বিজেপি৷ উনি বিভ্রান্ত করছেন। উনি বিজেপি বিরোধিতা করেননি।”

কিন্তু কুণাল বাবু, মুকুল বাবুর প্রতি এই আক্রমণ দলগত স্ট্র্যাটেজি না বা তার ব্যক্তিগত রাগ তা অবশ্য স্পষ্ট হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক কারবারিদের কাছে দুটি ব্যাপার সামনে আসছে। অনেক বিশেষজ্ঞ বা রাজনৈতিক কারবারিরা মনে করছেন কুনাল ঘোষের মুকুল রায়ের প্রতি টুইটের মাধ্যমে এই আক্রমণ কৌশল হতে পারে। শুভেন্দু অধিকারীরা বা বিজেপি-র পক্ষ থেকে মুকুল রায়ের বিধায়ক ইস্যু নিয়ে শীর্ষ আদালতে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে।

যদি বিজেপি শীর্ষ আদালতে মুকুল রায়ের এই ঘটনা নিয়ে যান তবে মুকুলবাবু বলতে পারবেন, তিনি বিজেপিতে আছেন আর সেই কারণেই তৃণমূলের নেতাদের কাছ থেকে তিনি বারবার আক্রমণে বিদ্ধ হচ্ছেন। অপরদিকে কিছু বিশেষজ্ঞ বা রাজনৈতিক কারবারিরা মনে করছেন মুকুলের বিরুদ্ধে কুণালের একের পর এক আক্রমণ ব্যক্তিগত রাগ থেকেও হতে পারে।
ফের মুকুলকে বেনজির আক্রমণ কুণালের, তবে কি এই মন্তব্য দলের কৌশল না ব্যক্তি কুণালের রাগ?
তবে কুণাল, মুকুলের প্রতি এই আক্রমণ তৃণমূলের দলের কথা কিনা সেটা যতক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে ততক্ষণ এই নিয়ে বেশী কিছু বলা যাচ্ছে না বলে মনে করেন রাজনৈতিক কারবারিরা।








