নজরবন্দি ব্যুরোঃ ত্রিপুরায় প্রাক্তন সিপিএম সাংসদের ঘরে কুণাল, স্পষ্ট হচ্ছে ভোটের আগে জোটের আভাস। গত কয়েকদিনে বোঝা গিয়েছে, ২৪ এর দেশের লড়াইয়ের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান টার্গেট ত্রিপুরা। গত এক সপ্তাহ ধরে বাংলার নেতারা একপ্রকার ঘঁটি গেড়ে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন বিপ্লব দেবের রাজ্যে বসেই। গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ ইন্দ্রনীল সেনের উদ্যোগে টিকাকরণ চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পূজোর কর্মকর্তাদের


শুধু গইয়েছিলেন নয়, সাংবাদিক বৈঠক করে রিতীমত হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছেন সেখানের বর্তমান বিজেপি সরকারকে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্যাড ছাপাতে বলে এসেছেন বিপ্লব দেবকে। ২১ এর ভোটের আগে কেন্দ্রের নেতা মন্ত্রীরা বাংলায় এসে যে ছকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মমতা বন্দোপাধায়কে, রাজনৈতিক মহল বলছে ঠিক সেই ছকেই ত্রিপুরায় ছড়াচ্ছে এবার তৃণমূল।
তার মধ্যেই জল্পনা বিজেপি অ্যাটকাতে ত্রিপুরায় তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে সিপিএম। তার পিছনে একাধিক যুক্তি খুঁজে পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। দিন কয়েক আগেই বাংলায় বিমান বসু বলেছিলেন বিজেপি আটকাতে দেশের যেকোন দলের সঙ্গে জোট বাঁধতে রাজি বামেরা। তৃণমূলের কথা আলাদা করে না বললেও মন্তব্য নিয়ে জোর চর্চা চলেছে বাংলায়।
ঠিক তার পরে পরেই ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের গলায় শোনা গিয়েছিল তৃণমূলের সুর। সমীক্ষা করতে গিয়ে প্রশান্ত কিশোরের টিম আইপ্যাকের সদ্যদের আটকে রেখেছিল বিপ্লব দেবের পুলিশ,সেই প্রসঙ্গে একই মতামত দিয়েছিল তৃণমূল আর মানিক সরকার।


ত্রিপুরায় প্রাক্তন সিপিএম সাংসদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কুণালের মুখে প্রশংসা মানিক সরকারের।

জোটের জল্পনা আরও একাধাপ বেড়েছে ত্রিপুরায় প্রাক্তন সিপিএম সাংসদের ঘরে কুণাল ঘোষের উপস্থিতি। অভিষেকের পরে পরেই পড়শি রাজ্যে গিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। আর গিয়েই তিনি সাক্ষাৎ করেছেন প্রাক্তন সাংসদ এবং সরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা অজয় বিশ্বাসের সঙ্গে। উভয়ের কথা বার্তাও হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ। তৃণমূলের ত্রিপুরায় ঘাস ফুল ফোটানোর কৌশলের মাঝে স্বাভাবিক ভাবেই এই বৈঠক ঘিরে জল্পনার পারদ চড়ছে রাজনৈতিক মহলে।
ত্রিপুরায় গিয়েই কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, ‘ত্রিপুরা আমার কাছে নতুন নয়। এই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তী আমার বাবার কাছে চিকিৎসা করাতেন। পিজিতে চিকিৎসা করাতেন তিনি।’ সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শের তফাৎ থাকলেও মাণিক সরকারকে তিনি সম্মান করেন বলেও জানান। আচমকা কুণালের মুখে মানিক সরকারের প্রশংসাও জল্পনার তালিকায় যোগ করেছে এক্সট্রা পয়েন্ট।
তৃণমূলের প্রথম সারির মুখ কুণাল ঘোষের মতে ত্রিপুরায় বিজেপির বিকল্প তৃণমূল, তাঁর মতে সে রাজ্যে মানুষের পরিশ্রম, একাধিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না গেরুয়া শিবির। এবার পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের মডেলেই তৃণমূল উন্নততর ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
অন্যদিকে যাঁর সঙ্গে কুণালের সাক্ষাৎ নিয়ে নয়া জল্পনা তৈরি হয়েছে, সিপিএম এর প্রাক্তন সাংসদ অজয় বিশ্বাস বলছেন , ‘সরকারের কথা বলতে পারব না, তবে ত্রিপুরায় সিপিএমের জায়গাটা তৃণমূলের নিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’ হাতের তালুর মতো ত্রিপুরা চেনেন অজয় বিশ্বাস। ত্রিপুরায় প্রাক্তন সিপিএম সাংসদের সঙ্গে তাঁর বৈঠককে কুণাল সৌজন্য সাক্ষাৎ আর আশির্বাদ গ্রহণের ছুতো বলে এড়িয়ে গেলেও, অন্য সমীকরণ খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।







