৪৪ হাজার বিপিএল ফর্মের ডিজিটাল রুপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কলকাতা পুরসভার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ৪৪ হাজার বিপিএল ফর্মের ডিজিটাল রুপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কলকাতা পুরসভার। বিপিএল তালিকায় অসঙ্গতি নতুন বিষয় নয়। কলকাতা পুরসভার বিপিএল তালিকা নিয়ে প্রায়ই এই অভিযোগ সামনে আসে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারীদের নামের বদলে দারিদ্রসীমার উপরে বসবাসকারীদের নাম বিপিএল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য বিপিএল সংক্রান্ত সব তথ্যকে ডিজিটাল মাধ্যমে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কলকাতা পুর প্রশাসন।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যে করোনায় কোন বয়েসের কত জন মারা গেলেন জানেন? ভয় কমাতে পড়ুন।

ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল মাধ্যমে নিয়ে আসা হবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্প্রতি ৪৪ হাজার বিপিএল ফর্ম ডিজিটাল উপায় দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কলকাতা পুরসভা। জানা গেছে, পুরসভার ১৬টি বরো অফিসেই এই ডিজিটাল মাধ্যম কাজ শুরু হবে। পুরসভা সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই শেষ হবে প্রাথমিক ধাপের কাজ। পুর আধিকারিকদের একাংশ জানিয়েছেন, দ্রুততার সঙ্গে করার জন্য প্রতিটি বরোয় কমপক্ষে তিন জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রাখা হবে।

এক পুর আধিকারিক জানান, লক্ষ্য ১৫ দিনে ৪৪ হাজার বিপিএল ফর্মের ডিজিটাল রূপ দেওয়ার। সেই লক্ষ্য পুরনের জন্য প্রয়োজন সেই অনুযায়ী লোকবল। প্রায় দেড় বছর আগে কলকাতা পুরসভার বিপিএল তালিকা আলোচনার কেন্দ্র সীমায় পৌঁছে ছিল। সেই সময়ে প্রায় ১৮ হাজার পরিবারকে নতুন ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বিপিএল তালিকায়। ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছরই বিপিএল তালিকা প্রকাশিত করে পুরসভা।

এই পূর্ণাঙ্গ তালিকা শেষবার প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৪ – ১৫ সালে। ২০১৫ – ১৬ সালে তালিকার কাজ হলেও সেটি প্রকাশিত হয়নি। পরবর্তী সময়ে পরিমার্জন ও সংশোধন করে একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পুর প্রশাসনের তরফে। সেই তালিকাতেই ১৮ হাজার ৮৮৭টি পরিবারের বিপিএল তালিকায় নতুন ভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ২০১৪ – ১৫ সালের তালিকার হিসেবে শহরে দারিদ্রসীমার নীচে থাকা পরিবারের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৮৯ হাজার ১৩২টি।

পরের বছর সংযোজিত তালিকায় সেই সংখ্যা দাড়ায় ৩ লক্ষ ৮ হাজার ১৯-এ। এক বছরের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার পরিবারের নতুন করে বিপিএল তালিকাভুক্ত হওয়াটা শহরের অর্থনীতির পক্ষে ভাল নয় বলে মনে করে ছিলেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। এই বিষয়ে পুরসভার কর্তৃপক্ষের তরফে যুক্তি দেখানো হয়েছিল, বিপিএল তালিকার পরিমার্জন ও সংশোধনের কাজ ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকে। সেই কারণে তালিকায় পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে শহরের অর্থনীতির কোন সম্পর্ক নেই। সে সব পরিবার গুলি নাম কোন কারণ বসত তালিকাভুক্ত ছিল না তাদের নাম তোলা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ভারতে শুরু হল অক্সফোর্ড ভ্যাক্সিনের শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল।

৪৪ হাজার বিপিএল ফর্মের ডিজিটাল রুপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কলকাতা পুরসভার। কিন্তু সেই তালিকা বরো কোঅর্ডিনেটরদের কাছে পাঠানোর পর থেকে তা আর চূড়ান্ত পর্যায় যায়নি বলে জানা যাচ্ছে। পুরসভার ২ নম্বর বরো কোঅর্ডিনেটর সাধন সাহা এ বিষয়ে জানান, দেড় বছর আগেই পুরসভা ওই খসড়া তালিকা আমাদের পাঠিয়েছিল। কিন্তু তার পরে সেই তালিকা চূড়ান্ত হয়ে হাতে এসে পৌঁছায়নি। পুরসভা সূত্রে খবর, সেই তালিকা আপডেট করে প্রকাশিত করার জন্যই বিপিএল ফর্মগুলির ডিজিটাল রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর