আজ বড়দিনে কলকাতা কার্যত কাঁপছে শীতে। বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে—চলতি মরসুমে এই প্রথম ১৩ ডিগ্রির ঘরে ঢুকল পারদ। ফলে বড়দিনের সকাল শুরুই হয়েছে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার সঙ্গে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৯ ডিগ্রি। মাত্র একদিনে এক ডিগ্রিরও বেশি পতনে আজকের এই শীতল সকাল মরসুমের নজির গড়েছে। এর আগে ২১ ডিসেম্বর কলকাতায় তাপমাত্রা নেমেছিল ১৪.৪ ডিগ্রি, আর ৬ ডিসেম্বর ছিল ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


আবহবিদদের মতে, রাতের দিকে উত্তর-পশ্চিমের শুষ্ক বাতাস এবং পরিষ্কার আকাশের জেরে তাপমাত্রা দ্রুত নেমেছে। সকালবেলা কুয়াশার দাপট থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ পরিষ্কার হয়েছে—যা এই ধরনের শীতের স্বাভাবিক লক্ষণ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর বড়দিন ছিল গত দশকের উষ্ণতমগুলির একটি—সেদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বছরের চিত্র একেবারেই উল্টো, যা শীতপ্রেমীদের জন্য আনন্দের খবর হলেও সকাল ও রাতের যাতায়াতে বাড়তি সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উত্তরবঙ্গে শীতের প্রভাব আরও তীব্র। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে সকাল থেকে ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী কয়েক দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে। পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে।


দক্ষিণবঙ্গেও কুয়াশার দাপট স্পষ্ট। বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়ায় ঘন কুয়াশা, বাকি জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা কমতে পারে বলে চালক ও যাত্রীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বড়দিনে শীতের এই তীব্রতা রাজ্যের আবহাওয়ায় স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ডিসেম্বরের শেষ লগ্নে শীত আরও চওড়া হবে। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি তাই উষ্ণ পোশাক ও ভোর-রাতের যাতায়াতে বাড়তি সাবধানতাই বুদ্ধিমানের।







