আইপিএলের মঞ্চে আবার মুখোমুখি কলকাতা নাইট রাইডার্স ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কিন্তু এ শুধু আর পাঁচটা ম্যাচ নয়—ওয়াংখেড়েতে অতীত বদলের লড়াই। কেকেআরের কাছে এটি সম্মানের ম্যাচ, আর মুম্বইয়ের কাছে ‘স্লো স্টার্ট’ বদলে জয়ের ছন্দে ফেরার সুযোগ। ম্যাচের আগে দুই দলই নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে নাইট শিবিরে এখনও প্রথম একাদশ নিয়ে একটা বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গিয়েছে।
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে কেকেআরের রেকর্ড খুব একটা উজ্জ্বল নয়। সেই ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চলেছেন অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। তবে ম্যাচের আগে তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা পেস বোলিং বিভাগ।
চোট-আঘাতের কারণে কেকেআরের বোলিং কম্বিনেশন এখনও পুরোপুরি স্থির হয়নি। বৈভব অরোরা খেলবেন, সেটা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু তাঁর সঙ্গী কে হবেন—সেই নিয়েই দ্বিধায় টিম ম্যানেজমেন্ট।
জিম্বাবোয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানিকে খেলানো হলে, একজন পেস অলরাউন্ডারকে বাইরে বসাতে হবে। সেক্ষেত্রে রভম্যান পাওয়েলের জায়গা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই একটি পজিশন নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।
বাকি ব্যাটিং অর্ডার প্রায় ঠিক করে ফেলেছে কেকেআর।
রাহানের সঙ্গে ওপেন করতে পারেন ফিন অ্যালেন। তিন নম্বরে অঙ্গকৃশ রঘুবংশী এবং চার নম্বরে থাকবেন ক্যামেরন গ্রিন—যাঁকে এ বছর বড় অঙ্কে দলে নিয়েছে নাইটরা।
গ্রিনের উপর ‘প্রাইস ট্যাগের চাপ’ নিয়ে আলোচনা থাকলেও, কেকেআরের কোচ শেন ওয়াটসন তা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। তাঁর মতে, গ্রিন এর আগেও বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
দলের কম্বিনেশনের জন্য অঙ্গকৃশ রঘুবংশীকেই উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। প্র্যাকটিসে তাঁকে এই ভূমিকার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে মুম্বই শিবিরে স্বস্তির খবর—দলে ফিরেছেন তারকা পেসার জসপ্রীত বুমরা। চোটের কারণে তিনি কিছুদিন বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্সে ছিলেন। তবে ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় মুম্বইয়ের বোলিং আক্রমণ অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া-র নেতৃত্বে মুম্বই এবার আইপিএলের ‘স্লো স্টার্ট’ বদলাতে মরিয়া। পরিসংখ্যান বলছে, টুর্নামেন্টের শুরুটা বরাবরই ভালো করতে পারেনি মুম্বই—সেই ধারা ভাঙতেই মরিয়া তারা।
এই ম্যাচে একদিকে ইতিহাস বদলের তাগিদে কেকেআর, অন্যদিকে নতুন শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে মুম্বই—দুই দলের এই সংঘর্ষ নিঃসন্দেহে হাইভোল্টেজ হতে চলেছে।



