নজরবন্দি ব্যুরোঃ মহিলা ভোট কর্মীদের প্রতি চরম অবহেলা করছে নির্বাচন কমিশন! নির্বাচন প্রক্রিয়ায় মহিলাদের ভোট কর্মী হিসাবে কাজে লাগানো হয়েছে অথচ মহিলাদের প্রতি সামান্যতম দায়িত্ব-কর্তব্যের জায়গাগুলি প্রচন্ড অবহেলিত। নজিরবিহীন অভিযোগ করল শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ। কিন্তু কেন এমন অভিযোগ? চলতি নির্বাচনে কমিশন এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা আগে কখনও হয়নি। ৮ দফায় নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করা হয়েছে কমিশনের তরফে। তাহলে মহিলা সুরক্ষার বিষয়টি অবহেলিত কেন? পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালট ডিস্ট্রিবিউশন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ লোকসভায় এগিয়ে থাকা BJP-র প্রচারে ভাঁটা! শিলিগুড়িতে লড়াই অশোক বনাম ওমপ্রকাশের।
শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চর রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী অভিযোগ করেছেন, “যে ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে রুমের মধ্যে মহিলারা সারা রাত কাটাবেন সেই রুমে সারারাত চালু করে রাখা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। অভিযোগ জানিয়ে কোনো সুরাহা হয় নি। অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে পুরুষদের সাথে কমন জায়গায় এবং ১০০ মিটার দূরে। সেক্টর অফিসে অভিযোগ জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। তিনি প্রায় নির্বিকার। ভোট শেষে গভীর রাতে বাড়ি ফেরার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করার কথা জানালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেক্টর অফিসার জানান তাঁদের কিছু করার নেই। বিপদের ঝুঁকি নিয়ে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতে হয় মহিলাদের।”
তাঁর কথায়, “প্রতিবন্ধী, অসুস্থ, কিংবা ছোট্ট শিশুর মা নির্বাচনে ভোট কর্মীদের ট্রেনিং-এ উপস্থিত হতে না পারলে চাকরি থেকে বরখাস্ত হুমকি দিয়ে শোকজ লেটার পাঠানো হয় অথচ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এইসব ব্যক্তি যাঁরা সঠিক দায়িত্ব পালন করছেন না তাঁদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না? সমস্ত ব্যবস্থা থাকার কথা দেওয়া সত্ত্বেও কেন এই ধরনের অব্যবস্থা? এমন বহু অভিযোগ বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা পাচ্ছি। আগামী দফার নির্বাচনগুলিতে যেন এই অব্যবস্থা না থাকে তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছি আমরা। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে মহিলা ভোটকর্মীগণ ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থেকেই প্রতিবাদে সামিল হবেন।”
পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালট নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন কিংকর। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে দু’দফার ভোট সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। সারা রাজ্যে ভোট কর্মীদের ট্রেনিং কোথাও শেষ হয়ে গিয়েছে, কোথাও শেষ পর্যায়ে। কিন্তু এখনও বহু অভিযোগ আসছে অসংখ্য ভোট কর্মী এখনও পর্যন্ত তাঁদের পোস্টাল ব্যালট পাননি। এমনকি যেসব এলাকায় ভোট গ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে সেই এলাকার বহু ভোট কর্মী পোস্টাল ব্যালট পাননি।
কিংকর বাবুর কথায়, “আমরা ভোট গ্রহণ করার জন্য যাচ্ছি অথচ আমরা আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছি না। বিগত নির্বাচনেও এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে ভোট কর্মীগণ শেষ পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালটের না পাওয়ায় ভোট দিতে পারেননি। ব্যক্তিগতভাবে আমিও এই পরিস্থিতির শিকার। আমি নিজে ভোট কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এসেছি। শুনলাম ভোটগ্রহণের দিন আমার নিজের বাসস্থানের ভোটকেন্দ্রে নির্বাচক তালিকায় আমার নামের পাশে পোস্টাল ব্যালট ইস্যুর কোন চিহ্ন ছিল না। কি অদ্ভুত ব্যাপার! জানিনা শেষ পর্যন্ত আমার পোস্টাল ব্যালট এসে পৌঁছাবে কিনা। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি সমস্ত ভোট কর্মী যাতে তাঁদের পোস্টাল ব্যালটে পেতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সেই ভোট যেন বিধানসভা ভিত্তিক একসাথে মিশিয়ে গণনা করা হয়। কোন ভাবেই বুথ ভিত্তিক পোস্টাল ব্যালটে গণনা করা চলবে না। এ ব্যাপারে আমরা নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে অভিযোগ এবং দাবি জানিয়েছি।”



