খগেন মুর্মুরের অবস্থা সংকটজনক, অস্ত্রপচার প্রয়োজন — হাসপাতালে ভর্তি বিজেপি সাংসদ

নাগরাকাটায় হামলার পর গুরুতর জখম মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। চোখের নীচের হাড়ে ভাঙন, হতে পারে অস্ত্রপচার। শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি নেওয়া হতে পারে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এখন শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর চোখের নীচের অংশের একটি হাড় ভেঙে গিয়েছে এবং খুব শিগগিরই অস্ত্রপচার (Surgery) প্রয়োজন হতে পারে। নাগরাকাটায় বন্যা বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে রবিবার তিনি এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ হামলার শিকার হন। বর্তমানে সাংসদের শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক হলেও স্থিতিশীল।

ঘটনার বিবরণ
জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনের সময় বিজেপির দুই জনপ্রতিনিধির ওপর আকস্মিক হামলা হয়। স্থানীয়দের একাংশ তাঁদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নাক-মুখ ফেটে রক্ত ঝরছে খগেন মুর্মুর মুখ দিয়ে। রক্তে ভিজে গিয়েছে তাঁর রুমাল ও জামা। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সাংসদের চোখের নিচে থাকা হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে। চিকিৎসা দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, ‘‘ওই অংশটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। অস্ত্রপচার না করলে দৃষ্টিশক্তিতেও প্রভাব পড়তে পারে।’’ সোমবার থেকেই তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে। বর্তমানে একাধিক স্ক্যান ও মেডিক্যাল টেস্ট চলছে, যার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অস্ত্রপচার শিলিগুড়ি না দিল্লিতে, সিদ্ধান্ত আজ
দলীয় সূত্রে খবর, আজই নির্ধারণ করা হবে অস্ত্রপচার শিলিগুড়িতেই হবে নাকি দিল্লির এইমসে স্থানান্তর করা হবে। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন চিকিৎসক ও বিজেপি নেতৃত্ব মিলে। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছেছেন। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, “চোখের নীচের হাড়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে, চিকিৎসকরা বলেছেন সার্জারি অপরিহার্য।”

বিজেপির প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ
বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই হামলার পেছনে তৃণমূলের (TMC) হাত রয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৮ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। তবে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে উত্তরবঙ্গের বিজেপি শিবির।

শঙ্কর ঘোষের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল
অন্যদিকে, শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এখন অনেকটাই সুস্থ। তাঁর মাথায় আঘাত থাকলেও বড় বিপদ কাটিয়ে উঠেছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। আজ দুপুরে তাঁর একটি এমআরআই পরীক্ষা নির্ধারিত রয়েছে। সেই রিপোর্ট দেখে তাঁকে কবে ছাড়া হবে তা ঠিক করবেন চিকিৎসকরা।

রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে উত্তরবঙ্গে
এই হামলার পর উত্তরবঙ্গজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত আক্রমণ।” অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, বিজেপি অযথা রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।

খগেন মুর্মুরের শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চিকিৎসকরা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আজকের চিকিৎসা রিপোর্ট ও দলীয় আলোচনার পরই নির্ধারণ হবে তাঁকে দিল্লি পাঠানো হবে কি না। আপাতত উত্তরবঙ্গজুড়ে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই নজর এখন একটাই—সাংসদের সুস্থতা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত