আরও ঢেউ আসার আগেই টিকার ফর্মুলা শেয়ার করুক কেন্দ্র, দাবী কেজরিওয়ালের

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আরও ঢেউ আসার আগেই টিকার ফর্মুলা শেয়ার করুক কেন্দ্র, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে একাটা গোটা দেশ। সবথেকে পরিস্থিতি খারাপ দিল্লি, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশে। গত কয়েক সপ্তাহ দিল্লি জুড়ে প্রবল হাহাকার ছিলো অক্সিজেনের। সংক্রমণ এতো ব্যাপক হারে হয়েছিলো দেশের রাজধানীতে অকূলান হাসপাতালের বেড। গোটা রাজ্য জুড়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলেছে মৃত্যু মিছিল। শ্মশান-কবর স্থান পেরিয়ে পার্কিং লটে জমা হচ্ছিলো থরে থরে প্যাকেট বন্দি মৃতদেহ। দেশের রাজধানীর গণচিতার ছবি দেখে শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ।

আরও পড়ুনঃ আগামী ৩ মাস আলাপনই থাকুন মুখ্যসচিব পদে, কেন্দ্রের অনুমতির অপেক্ষায় মমতার সরকার

অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে কেন্দ্রের কাছে বারবার অনুরোধ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন এই মুহুর্তে দিল্লিতে ঘাতটি নেই আর অক্সিজেনের। এবার শুধু টিকা চায়। দিল্লি লড়েছে কোভিডের বিরুদ্ধে, এখনো লড়ছে, লড়ছে গোটা দেশ। দিল্লিতে অক্সিজেনের ঘাটতি মিটলেও গোটা দেশে প্রবল ঘাটতি অক্সিজেনের, অন্ধ্রের তিরুপতিতে কাল রাতে অক্সিজেনের অভাবে মারা গিয়েছেন ৫ জন। অক্সিজেনের পাশাপাশি গোটা দেশে এই মুহুর্তে বাড়ন্ত টিকা।

ভ্যাকসিনের অভাবে বিভিন্ন রাজ্যে থমকে রয়েছে টিকাকরণ প্রক্রিয়া। এই মুহুর্তে ভারতের কাছে রয়েছে কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাকসিন, কিন্তু দেশবাসীর চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করতে পারছেন না তারা এই বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন। রাশিয়ার স্পুটনিক ভি-কে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও এখনো ভারতের বাজারে আসেনি সেই টিকা। ফলত প্রায় সব রাজ্যেই ঘাটতি টিকার। দেশের ১৮ বছরের উর্দ্ধের সকলকে টিকা প্রদানের কথা বলা হলেও টিকার অভাবে সম্ভব হয়নি।

জায়গায় জায়গায় টিকার লম্বা লাইন, না পেয়ে ঘুরে যাচ্ছে মানুষ। অন্য দিকে প্রবল বেগে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে সেরাম ইনস্টিটিউট এবং ভারত বায়োটেককে তাদের টিকার ফর্মুলা অন্যান্য সংস্থা গুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার কথা বলেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মঙ্গলবার দিল্লির করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন কেজরীবাল। সেখানেই কেন্দ্রকে তিনি পরামর্শ দেন, “মাত্র দু’টি সংস্থা ভ্যাকসিন তৈরি করছে। তারা মাসে ছয় থেকে সাত কোটি ভ্যাকসিন তৈরি করে। এইভাবে চললে সকলকে ভ্যাকসিন দিতে দুই বছরের বেশি সময় লেগে যাবে। তখন আরও অনেক ঢেউ চলে আসবে। ভ্যাকসিনের উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় পরিকল্পনা তৈরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক সংস্থাকে ভ্যাকসিন তৈরির কাজে লাগানো উচিত।”

আরও ঢেউ আসার আগেই টিকার ফর্মুলা শেয়ার করুক কেন্দ্র, দাবী কেজরিওয়ালের তিনি জানান, “আমরা প্রতিদিন ১.২৫ লক্ষ করে টিকা দিচ্ছি। এরপর প্রতিদিন তিন লক্ষর বেশি করে টিকা দেওয়া শুরু করব। আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রত্যেককে ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। কিন্তু, আমাদের ভ্যাকসিনের ঘাটতি রয়েছে।” সেই কারণেই নিদান দিয়েছেন কেজরীওয়াল। তাঁর মতে, সেরাম এবং ভারত বায়োটেকের ফর্মুলা নিয়ে টিকা বানাবে যে সংস্থাগুলি তাদের থেকে স্বত্ত্বমূল্য আদায় করুক এই দুই সংস্থা। কিন্তু ফর্মুলা ভাগ করে নিক। তাতে অন্তত দেশের সকলে এই সংকটের সময়ে টিকা পাবেন।

 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর