আবার গর্জে উঠবে ব্রিগেড ময়দান, তবে এ বার রাজনৈতিক সভা নয়, বরং সনাতন ধর্মীয় আবেগে ভরপুর এক মহাযজ্ঞের ডাক। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ন্যাসী ও পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত কার্তিক মহারাজ ঘোষণা করেছেন, ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর ব্রিগেডে আয়োজিত হবে ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ।
এটা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং তা বাংলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণে এক প্রতীকী কর্মসূচি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


কার্তিক মহারাজের ঘোষণা: কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরু শঙ্খ বাজিয়ে
সোমবার নৈহাটি থেকে ‘তুলসি যাত্রা’ নামে একটি ধর্মীয় মিছিল বের করেন কার্তিক মহারাজ।
সেই যাত্রার শেষে দাঁড়িয়েই তিনি ঘোষণা করেন এই বৃহৎ গীতাপাঠ কর্মসূচির কথা।
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে প্রতীকী ভাষা—“যেমন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল পাঞ্চজন্য বাজিয়ে, তেমনই বাংলা জয়ের যুদ্ধ শুরু হবে শঙ্খ বাজিয়ে।”


তিনি আরও বলেন,“ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ মানুষ একত্রিত হয়ে গীতাপাঠ করবেন। থাকবে বাগেশ্বর ধামের বাবাজি ও বহু সনাতনী ধর্মাবলম্বী।”
হিন্দুত্ব ও রাজনৈতিক বার্তা একসঙ্গে
কার্তিক মহারাজের ভাষণে শুধু ধর্মীয় আহ্বানই নয়, বরং ছিল রাজনৈতিক ইঙ্গিতও।
তিনি স্পষ্ট জানান, এই কর্মসূচি থেকেই শুরু হবে “বাংলার বিজয়যাত্রা”।
এমনকি বলেন,“রাবণের বিরুদ্ধে রামচন্দ্রের জয়ধ্বনি ছিল যেমন, আমরাও রাবণের শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করব।”
এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে— এই কর্মসূচি ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির মঞ্চ হতে চলেছে কি?
অর্জুন সিং পাশে, বার্তা আরও স্পষ্ট?
এই যাত্রায় কার্তিক মহারাজের পাশে ছিলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং।
তিনি মিছিলের পর বলেন,“কালীগঞ্জে পরাজয়ের কারণ মুসলিম ভোট। ওরা আমাদের ভোট দেয় না।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে যায়— এই কর্মসূচির পেছনে গেরুয়া রাজনীতির মদত আছে বলেই ধারণা।
মূল কীওয়ার্ড: গীতাপাঠ ব্রিগেড
গীতাপাঠ ব্রিগেড ২০২৪ হয়ে উঠছে এখন বাংলার রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
এটি কি নিছক ধর্মীয় অনুষ্ঠান, নাকি আগামী নির্বাচনের আগে হিন্দু ভোট ব্যাঙ্ককে সংগঠিত করার কৌশল— সেটা সময় বলবে।
তবে এত কিছু সত্ত্বেও, বাংলায় এই মাপের ধর্মীয় কর্মসূচি ইঙ্গিত দিচ্ছে বৃহৎ পরিবর্তনের।








