নজরবন্দি ব্যুরোঃ শুরু থেকেই রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে ইডি-র হাতে ধৃত বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ২ দিন আগেই খাদ্যমন্ত্রীর থাকাকালীন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ভূমিকার প্রশংসাই করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ধৃত মন্ত্রীর পাশে থাকলেও এ দিন এমন একটি কান্ড করলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী যে দলের সহকর্মীরাই চলে গেলেন যোজন দূরত্বে!
আরও পড়ুনঃ বেনামি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি মানি লন্ডারিং, রেশন দুর্নীতিতে বড় ব্রেক থ্রু ED-র


আজ সকালে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য ইডির দফতর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বার করা হয় জ্যোতিপ্রিয়কে। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে ইডি হেফাজতে থাকা মন্ত্রী বলেন, “আমি চক্রান্তের শিকার। বিজেপি আমায় ফাঁসিয়েছে। মমতাদি-অভিষেক সব জানে।” তিনি দলের সঙ্গে রয়েছেন কি না এই প্রশ্নের উত্তরে বালু বলেন, “আমি দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”

এই ঘটনার পরেই চাপ বাড়ায় বিজেপি। বিরোধী দলের রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ফেসবুক এবং ট্যুইটারে বালুর ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, “আরে আমরাও তো আপনার সাথে একমত বালু বাবু !! যাক আপনি নিজে মুখে স্বীকার করলেন!! মমতা ব্যানার্জির অনুপ্রেরণায় এবং অভিষেক ব্যানার্জির মদতে যে বিপুল পরিমাণে দুর্নীতি হয়েছে তা একে একে সামনে আসছে। মানুষ সব দেখছে এবং এই দুর্নীতির জবাব পশ্চিমবঙ্গের মানুষই দিয়ে দেবে…”
রেশন দুর্নীতির দায়িত্ব নেবেনা তৃণমূল, মমতা-অভিষেকের নাম মুখে এনে বিপাকে বালু



এর পরেই কার্যত বালুর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃনমূল হেভিওয়েটরা। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যান ব্যানার্জি বলেন, “বালুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত নয়। তবে অপকর্ম কিছু যদি করে থাকে তার দায় কখনওই দিদির নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে বলেছিলেন, দুর্নীতিতে প্রশ্রয় দেননি কখনও।” কল্যাণের কথায় স্পষ্ট, যদি সত্যিই কোন দুর্নীতিতে বালু জড়িয়ে থাকেন তাহলে তার দায় দল নেবেনা!
প্রসঙ্গত, গতকাল কার্যত একই সুর শোনা গিয়েছিল তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের গলায়। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার দু জনেই উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলায় শাসক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সংগঠন দেখার পাশাপাশি একই ওই জেলা থেকেই জনপ্রতিনিধিও বটে। সেই সহকর্মীর বিরুদ্ধেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মন্তব্য ‘ব্যক্তি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কী করেছেন তার জন্য দলের ভাবমূর্তি কেন খারাপ হবে?’







