ম্যাচটা যেন শুরু থেকেই একতরফা নাটক। স্কোরবোর্ডে ৯ রানে ৬ উইকেট—দেখে মনে হচ্ছিল আইপিএলের ইতিহাসে নতুন লজ্জার নজির গড়তে চলেছে দিল্লি। আর সেই ধসের নেপথ্যে ছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার ও জশ হেজেলউড—দু’জনের বিধ্বংসী স্পেলে কার্যত ভেঙে পড়ে দিল্লির টপ অর্ডার।
দ্বিতীয় বলেই প্রথম ধাক্কা, তারপর একের পর এক উইকেট। প্রথম ছয় ব্যাটারের স্কোর—০, ১, ১, ০, ৫, ০—যেন ফোন নম্বরের মতো! এমন পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছিল, সর্বনিম্ন স্কোরের রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে।


কিন্তু সেখানেই লড়াইয়ের গল্প লিখলেন বাংলার Abishek Porel। ৭ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর ক্রিজে নেমে ডেভিড মিলারের সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন তিনি। ধসের মুখে একা লড়াই করে দিল্লিকে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া থেকে বাঁচান। তবে দলকে বড় স্কোরে নিয়ে যাওয়ার মতো সঙ্গ পাননি।
শেষ পর্যন্ত ১৬.৩ ওভারে ৭৫ রানে অলআউট হয় দিল্লি। পাওয়ার প্লেতেই সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্সের নজির গড়ে তারা। মাঝেমধ্যে ধুলোঝড়ের কারণে খেলা থামলেও, দিল্লির ব্যাটিংয়ে কোনও ঝড় দেখা যায়নি।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিল RCB। জ্যাকব বেথেল দ্রুত আউট হলেও, বিরাট ও দেবদত্ত পাড়িক্কল সহজেই ম্যাচ শেষ করে দেন। সপ্তম ওভারেই জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ হয়।


উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই একই মাঠে এর আগেই ২৬৪ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোর উঠেছিল। সেই পিচেই এদিন প্রথমে ব্যাট করে ১০০-ও পার করতে পারল না দিল্লি—যা ম্যাচের অদ্ভুত বৈপরীত্যই তুলে ধরে।
সব মিলিয়ে, দিল্লির ব্যাটিং বিপর্যয় আর পোড়েলের একক লড়াই—এই দুইয়ের মাঝেই শেষ হল ম্যাচ। আর আরসিবি পেয়ে গেল একেবারে অনায়াস জয়।







