তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে চলা বিতর্কে নতুন মোড়। কালীঘাটে অনুষ্ঠিত দুই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের নথি প্রকাশ্যে এনে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ওই নথিতে কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা স্বাক্ষর করেছেন এবং কারা শুধুমাত্র ব্লক লেটারে নাম লিখেছেন, তার বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে। তবে নথি প্রকাশের পরই তার সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
শোভনদেবের প্রকাশ করা নথি অনুযায়ী, গত ৬ মে কালীঘাটের ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৬৭ জন বিধায়ক। উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষর, বিধানসভা কেন্দ্রের নাম এবং তারিখ নথিভুক্ত রয়েছে। যদিও কয়েকজন বিধায়ক স্বাক্ষরের বদলে ব্লক লেটারে নিজেদের নাম লিখেছেন বলেও দেখা গিয়েছে।
এই তালিকায় মহেশতলার শুভাশিস দাস, বোলপুরের চন্দ্রনাথ সিংহ, খড়্গপুরের দীনেন রায় এবং ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলামের নাম রয়েছে। নথির শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি তৃণমূলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক, যেখানে বিরোধী দলনেতা, উপনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছিল।
নথি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিলেন অরূপ রায় এবং সমর্থন করেছিলেন চন্দ্রনাথ সিংহ। পরবর্তীতে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেন মদন মিত্র। উপস্থিত সদস্যদের পাশাপাশি অনুপস্থিত সদস্যদেরও সমর্থনের উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৯ মে-র বৈঠকের নথিতেও ৫৯ জন বিধায়কের উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে। সেখানেও কয়েকজন বিধায়ক ব্লক লেটারে নাম লিখেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই নথি ঘিরেই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। তৃণমূলের কিছু নথিতে জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বর্তমানে বিরোধী দলনেতার পদে থাকা ঋতব্রত এই নথির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, প্রকাশিত নথি আসলে হাজিরা খাতা হতে পারে, বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাবের সরকারি নথি নয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এটি প্রকৃত প্রস্তাবপত্র হয়, তাহলে স্পিকারের কাছে কি এই একই নথি জমা দেওয়া হয়েছিল?
ঋতব্রতের আরও দাবি, প্রকাশিত নথির বিভিন্ন পাতার রঙ এবং বিন্যাসে অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁর মতে, প্রথম দুই পাতার সঙ্গে তৃতীয় পাতার কোনও মিল নেই এবং শেষ পাতায় কোনও স্বাক্ষরও নেই। ফলে নথির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিকে তৃণমূলের এক বিদ্রোহী বিধায়ক দাবি করেছেন, ১৯ মে-র বৈঠকে দুটি পৃথক নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল। একটি ছিল উপস্থিতির জন্য, অন্যটি ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি সত্যতা এখনও সামনে আসেনি।
সব মিলিয়ে, কালীঘাটের বৈঠকের নথি প্রকাশের পর বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সিআইডি তদন্ত এবং সম্ভাব্য ফরেন্সিক পরীক্ষার ফলাফলের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



