নজরবন্দি ব্যুরোঃ নন্দীগ্রাম হাইভোল্টেজ মামলার বিচারক কৌশিক চন্দ, বিজেপি আইনি সেলের সদস্য?শুভেন্দু অধিকারীর-র বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জয় নিয়ে এই মামলা হয়েছে। তবে হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে শুনানি হল না আজ। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত মামলার শুনানি পিছিয়ে দিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। যদিও আজ মামলাটি গৃহীত হয়েছে বলে খবর। আগামি বৃহস্পতিবার হবে মামলার শুনানি।
আরও পড়ুনঃ ‘টিএমসি সেটিং মাস্টার’ কৈলাস! আস্থা হারিয়ে বিজয়বর্গীয়র বিরুদ্ধে পোস্টার কলকাতায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল মামলা করার পরেই সামনে এসেছে হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ-র নাম। প্রায় সাথে সাথেই সামনে এসেছে ২০১৬ সালের একটি ছবি। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিজেপির আইন শেলের বৈঠকে বসে রয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রাম হাইভোল্টেজ মামলার বিচারক কৌশিক চন্দ-র পাশেই বসে রয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং বিজেপির অন্যতম নেতা তথাগত রায়। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে বিচারপতি কি বিজেপি আইন সেলের সাথে যুক্ত?
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিরোধী হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মামলা শুনবেন তিনি। এবং রায় দেবেন! সেই রায় নিরপেক্ষতা বজায় রেখে হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল।

মমতা জয়ী ঘোষণার পরেও নন্দীগ্রাম পুনর্গণনায় এগিয়ে যান শুভেন্দু। ২রা মে সকালবেলা গননা শুরুর পর থেকেই সাপলুডোর খেলা চলে সবথেকে হাইভোল্টেজ আসন নন্দীগ্রামে। একবার শুভেন্দু এগিয়ে যাচ্ছেন তো একবার তৃনমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনার দিন বিকেল ৫ টা নাগাত ১৭ রাউন্ড গণনার পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে অবশেষে জিতলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীকে হারিয়েছেন ১২০০ ভোটে।
তারপর ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের মহানাটকীয় পরিবর্তন। শুভেন্দুর ফের গণনার দাবি মেনে গণনা করা হলে দেখা যায় ১৯২২ ভোটে এগিয়ে শুভেন্দু। কিছুক্ষণ পরই শুভেন্দু অধিকারীকে জয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। গোটা বিষয়টি নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তোলে তৃণমূল। আর এবার তা নিয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কিন্তু ঠিক কোন যুক্তিতে এই মামলা? তৃণমূলের পয়েন্ট, ১) গণনার সময় কেন্দ্রে আচমকাই দুঘণ্টার জন্য সার্ভার চলে গিয়েছিল। যার ফলে ফলাফল আপডেট হচ্ছিল না। ২) প্রথমে ১২০০ ভোটে জয়ী ঘোষণার পরও নতুন করে গণনায় শুভেন্দুকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। কেন? ৩) পোস্টাল ব্যালটের ভোট যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটিও না পান সেক্ষেত্রেও তাঁর ৮০০ ভোটে জয়ী হওয়ার কথা। কারণ নন্দীগ্রামে পোস্টাল ব্যালট ছিল মাত্র ৪০০ টি!! ৪) প্রথমে মমতা এবং পরে শুভেন্দুকে জয়ী ঘোষণা করার পর রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরী হয়। আবার গণনার দাবি জানায় তৃণমূল। কিন্তু সেই আবেদনে কর্ণপাত করেনি কমিশন।








