কলকাতা হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে, যা ভারতের নাগরিকত্ব ও অনুপ্রবেশের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে। আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র ভোটার কার্ড বা আধার কার্ড থাকার মাধ্যমে কেউ ভারতীয় নাগরিক হয়ে যান না। এই মন্তব্যটি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এক মামলার শুনানির সময় করেছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট:
এক দম্পতি, দুলাল শীল ও স্বপ্না শীল, যাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা জামিনের আবেদন করেছিলেন। মামলার শুনানিতে, তাঁদের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে, অভিযুক্ত দম্পতির কাছে ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড রয়েছে এবং তাঁরা ২০১০ সালে ভারতে এসেছেন। আইনজীবীরা বলেছিলেন যে, CAA (সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট) অনুসারে, ২০১৪ সালের মধ্যে ভারতে এসেছেন এমন ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের অধিকারী। তাই শীল দম্পতিকে জামিন দেওয়া উচিত।
বিচারপতির মন্তব্য:
জবাবে বিচারপতি দেবাংশু বসাক স্পষ্ট বলেন, “ভোটার কার্ড, আধার কার্ড থাকলেই কেউ ভারতীয় নাগরিক হয়ে যান না। অনেক বাংলাদেশিও এসব নথি বানিয়ে ফেলেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনুপ্রবেশকারীরা বিভিন্ন দেশে এরকম নথি তৈরি করে থাকে এবং নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ট্যাক্সও দেয়। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও এমন অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, যারা একইভাবে নথি তৈরি করে বিদেশে চলে গিয়েছিল।
পাসপোর্ট কেলেঙ্কারি ও ভারতীয় নথির ভুয়া ব্যবহার:
এছাড়া, কলকাতা হাইকোর্টের মন্তব্যের পর এক পাসপোর্ট কেলেঙ্কারির বিষয়ও সামনে এসেছে, যেখানে ৭৩ জন বাংলাদেশি ভারতীয় নথি তৈরি করে ভারতীয় পাসপোর্টও বানিয়ে ফেলেছেন। এই পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্তত ২০ জন বিদেশে চলে গেছেন। এই ঘটনা আরো একবার প্রমাণ করেছে যে, শুধু ভারতীয় নথি থাকা ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক হওয়ার কোনও গ্যারান্টি নয়।
আদালতের সিদ্ধান্ত:
শেষপর্যন্ত, বিচারপতি দেবাংশু বসাক শীল দম্পতির জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতের এই মন্তব্য নাগরিকত্ব আইন এবং ভারতীয় নথি ব্যবহারের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে আলোচনার সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কলকাতা হাইকোর্টের এই মন্তব্য নাগরিকত্ব এবং অনুপ্রবেশের বিষয়ে একটি বড় সতর্কতা সঙ্কেত। এটি দেশের নথি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব এবং অনুপ্রবেশকারীদের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আরও কঠোর মনোভাবের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।



