নজরবন্দি ব্যুরোঃ মুখ ফেরাচ্ছেন মানুষ? গতকাল সারা রাতের বৈঠকে এই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে এসেছিল একাধিকবার। আর সেই প্রশ্নে যে শিলমোহর মেরে দিল আজ বিষ্ণুপুরে জেপি নাড্ডার রোড শো। কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং সৌমিত্র খাঁর উপস্থিতিতে এদিন বিষ্ণুপুরে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে রোড শো করেন জেপি নাড্ডা। সর্বভারতীয় সভাপতির রোড শো বলে কথা, বিজেপির প্রস্তুতি ছিল তুঙ্গে। কিন্তু দেখা যায় নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ রোড শো শুরুর সময় নাড্ডার বাসের আগেপিছে সব মিলিয়ে মেরেকেটে হাজার দেড়েক কর্মী সমর্থক। বিরক্ত হলেও গতকাল অমিত শাহর অভিজ্ঞতা নিয়ে রোড শো করেন নাড্ডা।
আরও পড়ুনঃ ছাতনার সভা থেকে এক তীরে একসাথে কমিশন ও অমিত শাহকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাৎপর্যপূর্ন ভাবে এই বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে গত লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছিল বিজেপি। বিজেপির টিকিটে জয় পেয়ে লোকসভায় দ্বিতীয়বারের জন্যে পা রেখেছিলেন সৌমিত্র খাঁ। অন্যদিকে, গতমাসেই বর্ধমানে রোড শো করেছিলেন বিজেপি সভাপতি নাড্ডা, ভিড় হয়েছিল চোখে পড়ার মত। সেদিনের আর আজকের ছবির বিস্তর ফারাক। বিজেপির অবশ্য দাবি, খুব গরম পড়ে যাওয়ার জন্যে মানুষ আসেননি কিন্তু সমর্থন রয়েছে বিজেপির প্রতি। বাংলার মসনদে বিজেপি অন্তত ২০০ আসন জিতে বসছেই। যদিও একাধিক ইস্যুতে কার্যত নজিরবিহীন শঙ্কটের মুখে পড়েছে বিজেপি।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথেই বিদ্রোহ শুরু হয়েছে দিকে দিকে। কমবেশি বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ একটাই। তৃণমূল থেকে বিজেপি তে যোগ দিয়েছেন যারা তাঁদেরকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে প্রার্থী তালিকায়। গতকাল এই ইস্যুতে অবস্থান বিক্ষোভ থেকে ধর্না এমনকি ভাংচুর পর্যন্ত হয়। হেস্টিংস-এ বিজেপির নির্বাচনী অফিসে আছড়ে পড়ে বিজেপি কর্মীদের রোষ। তাঁদের অরবিন্দ মেনন প্রতিশ্রুতি দেন প্রার্থী তালিকা বদলানোর ব্যাপারে।
উল্লেখ্য, গতকাল ঝাড়গ্রামে অমিশ শাহের সভায় ভিড় না হওয়ায় সভা এড়িয়ে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যদিও বিজেপি জানায় সভার ৫ কিলোমিটার আগে সমর্থকদের গাড়ি আটকে দেওয়ার কারনে হেঁটে আসতে হচ্ছিল সমর্থকদের, গরমের কষ্টে তাই সভাস্থলে আসতে পারেন নি হাজার হাজার সমর্থক। এদিকে অমিত শাহ জানান আসলে কপ্টারে যান্ত্রিক ত্রুটির জন্যেই তিনি আসতে পারেন নি। কিন্তু ভিড় যে একেবারেই হয়নি সেতা বলাই বাহুল্য।
মুখ ফেরাচ্ছেন মানুষ? একই দিনে সভা ছিল বিজেপির আর এক প্রাক্তন সভাপতি নিতিন গড়করির। তাঁর সভাতেও দেখা যায় মাঠ প্রায় ফাঁকা। তেমন অর্থে লোকই হয়নি। কোনমতে সেই ফাঁকা মাঠেই বক্তব্য রাখেন নিতিন। সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করার জন্যে বিজেপি নেতৃত্ব সারা রাত ধরে বৈঠক করে। ছিলেন বিজেপির তাবড় নেতারা। যদিও সেই মিটিং-এ কি স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।



