ভোটের আগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নয়—ঐক্যই একমাত্র পথ। গভীর রাতে নিউটাউনের এক হোটেলে বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে সোজাসাপটা ভাষায় এই বার্তাই দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারীর দিকে তাকিয়ে তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ—“নিজেদের মধ্যে লড়াই নয়।” একই সঙ্গে কড়া সতর্কতা, কোনওভাবেই যেন বাঙালি সেন্টিমেন্টে আঘাত না লাগে।
বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে দীর্ঘদিন পরে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ। নতুন কমিটির একাধিক সদস্যও ছিলেন। নাড্ডার বার্তা ছিল দ্ব্যর্থহীন—“এক হয়ে চলুন। আপনারা এক হলে তবেই নিচুতলার কর্মীরাও এক হবে।” সরাসরি শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “দল যা চাইছে, সেটাই মানতে হবে। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলায় বিজেপি সরকারের প্রয়োজন। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
বস্তুত, দিলীপ ঘোষ ফের সক্রিয় হওয়ার পর পরোক্ষে শুভেন্দুকে নিশানা করার অভিযোগে দলের অন্দরেই অস্বস্তি বাড়ছিল। ২০২১-এ ‘আদি-নব্য’ দ্বন্দ্বের খেসারত যে গেরুয়া শিবিরকে দিতে হয়েছিল, তা ভুলতে চান না নাড্ডা। ২০২৬-এর আগে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি রুখতেই এই কঠোর টোন।
নাড্ডা এদিন স্পষ্ট করে দেন—বাঙালি সেন্টিমেন্টে আঘাত করা যাবে না। অতীতে মাছ খাওয়া, রামনবমী পালন, বাঙালি মনীষীদের নিয়ে বেফাঁস মন্তব্যে বিজেপি যে বারবার বিপাকে পড়েছে, তা মাথায় রেখেই এই সতর্কতা। তাঁর নির্দেশ, “শুধু ভাষণ নয়—পথে নামুন, কাজ করুন। কোথাও গিয়ে গলায় মালা পরবেন না।”
গোষ্ঠীকোন্দল সামাল দিতে ‘বহিরাগত’ নেতাদের ভূমিকা নিয়েও ইঙ্গিত দেন নাড্ডা। তাঁর বক্তব্য, “গাড়ি চলবে—ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করবেন ভিন রাজ্যের নেতারা। তবে এ রাজ্যের নেতাদের সঙ্গে কোনও বিরোধ নেই। সবাই সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন।” এই দ্বৈত বার্তা নিয়েই অবশ্য দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে—একদিকে বাঙালি সেন্টিমেন্টে আঘাত না করার কথা, অন্যদিকে বহিরাগতদের ‘ইঞ্জিন’ করার কথা—এই সমীকরণ কতটা কার্যকর হবে?
সব মিলিয়ে, বঙ্গ বিজেপিতে সংঘাতের মেঘ কাটাতে নাড্ডার এই বৈঠক ছিল স্পষ্ট ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’। এখন দেখার, দিলীপ-শুভেন্দু শিবির কতটা ঐক্যের লাইনে হাঁটে—আর সেই ঐক্য ভোটের ময়দানে কতটা ফল দেয়।



