নজরবন্দি ব্যুরোঃ নেই ‘জয়ের শঙ্খ’, বাংলা সাহিত্যজগতের বটবৃক্ষের পতনে শোকাতুর জয় গোঁসাই। শঙ্খ ঘোষ লিখেছিলেন,
আমারই হাতে এত দিয়েছ সম্ভার
জীর্ণ ক’রে ওকে কোথায় নেবে ?
ধ্বংস করে দাও আমাকে ঈশ্বর
আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক। আর সেই সন্ততিদের একা ফেলে আজ চলে গেছেন শঙ্খ ঘোষ। সব হারিয়ে নিঃস্ব জয় গোসাঁই বলেছেন, আমার কী হারাল, তা আমিই জানি। শঙ্খ ঘোষের চলে যাওয়ায় একরকম অভিভাবক হীন হল বাংলা সাহিত্যের ঘরদোর।


আরও পড়ুনঃ “মৃত্যু ডেকে আনি নিজের ঘরে?” সমাজের কঠিন অসুখে এই প্রশ্ন সামনে রেখে চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ
১৯৩২ থেকে ২০২১। এতো দীর্ঘ সময়ে বাংলা সাহিত্যকে আগলে রেখেছিলেন তিনি। সমৃদ্ধ করেছেন নিজের কলম দিয়ে। কবির জন্ম অবিভক্ত বাংলার চাঁদপুরে, সালে। আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। সেখান থেকে বাংলা সাহিত্যের অভিভাবক। বাংলা সাহিত্যের ছাত্র, পেশায় অধ্যাপক। ঘুরেছেন দেশ বিদেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বাংলা সাহিত্য জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি নিজের লেখনীর মাধ্যমে। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে একাধিক সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন। ১৯৭৭ সালে ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থটির জন্য তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালে কন্নড় ভাষা থেকে বাংলায় ‘রক্তকল্যাণ’ নাটকটি অনুবাদ করেও সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়াও রবীন্দ্র পুরস্কার, সরস্বতী সম্মান, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছেন লেখনীর কারণে। ২০১১ সালে তাঁকে পদ্মভূষণে সম্মানিত করে তত্কালীন কেন্দ্রীয় সরকার।


বিভিন্ন সময়ে সময়োপযোগী একাধিক রচনার কারণে রাষ্ট্রের রোষের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে কখনোই থামিয়ে দেওয়া যায়নি তাঁর কলমকে। এবার সবকিছুকে থামিয়ে দিয়ে চলে গেলেন তিনি। শক্তি-সুনীল-শঙ্খ-উত্পল-বিনয়, জীবনানন্দ পরবর্তী বাংলা কবিতার হাল ধরেছিলেন তাঁরা। তাঁদের লাইন জুড়ে ছড়ানো স্বপ্ন কুড়িয়ে বেঁচে থেকছে হাজার হাজার মানুষ। সেই স্বপ্নের, ভাবনার কারিগরদের বাকি চার জন চলে গিয়েছিলেন আগেই। ছিলেন শুধু একজন। আজ চলে গেলেন শঙ্খবাবুও।শরীরে মৃদু উপসর্গ ছিলোই, গায়ে জ্বর থাকায়, করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন গত সপ্তাহে। ১৪ এপ্রিল বিকেলে রিপোর্ট এলে জানা যায়,ভাইরাস বাসা বেঁধেছে তাঁর শরীরে। ৮৯ বছরের একজন মানুষ। শরীরের বার্ধক্য জনিত একাধিক সমস্যা। তার সঙ্গে এই ভাইরাস। কোভিড সংক্রমণ ধরা পরার পর ঝুঁকি না নিয়ে বাড়িতেই আইসোলেশনে ছিলেন।








