চাকরি ফেরানোর দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলনের পর এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। সল্টলেকে আয়োজিত ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একাধিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিজেদের দাবি তুলে ধরলেন। বৈঠক শেষে তাঁদের বক্তব্য— অন্তত সমস্যার কথা বলার সুযোগ পাওয়া গেছে এবং তাঁরা আশাবাদী।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র সঙ্গে দেখা করেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের প্রায় ৩৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা। নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, পুনর্বহাল এবং যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি ফেরানোর দাবিতে তাঁরা বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে শিক্ষক প্রতিনিধিদের একাংশ জানান, আগে তাঁরা নিজেদের দাবি নিয়ে প্রশাসনের উচ্চস্তরে পৌঁছতে পারেননি। তাঁদের দাবি, এবার মুখ্যমন্ত্রী সময় নিয়ে তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন এবং আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়ও তুলে ধরেছেন।
প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন— কিছু ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই আইনি কাঠামোর মধ্যেই সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ দিন উপস্থিত ছিলেন চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধি সুমন বিশ্বাস-সহ একাধিক সংগঠনের সদস্যরা। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে যারা নিজেদের যোগ্য বলে দাবি করছেন, তাঁদের পক্ষে ওএমআর-ভিত্তিক মূল্যায়ন করে পুনর্বহালের দাবিও তুলে ধরা হয়।
‘যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষাকর্মী’ এবং আন্দোলনকারী বিভিন্ন মঞ্চের প্রতিনিধিরাও জনতার দরবারে অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসনের কাছে তাঁরা নিজেদের দাবি নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ থেকেই সল্টলেকে শুরু হয়েছে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি। সেখানে বিভিন্ন স্তরের মানুষ নিজেদের সমস্যা নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করছেন। চাকরি, প্রশাসনিক সমস্যা এবং জনপরিষেবা— বিভিন্ন বিষয়ে আবেদন জানানো হচ্ছে।
তবে চাকরিহারা শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি পূরণ হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের উপর। আপাতত বৈঠকের পর আন্দোলনকারীদের একাংশ আশাবাদী থাকার বার্তাই দিয়েছেন।



