Abhijit Ganguly: চাকরি যারা বিক্রি করেছেন তাঁদের কাছে যান, চাকরিহারাদের পরামর্শ বিচারপতির।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপকভাবে কারচুপি হয়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে চাকরি বিক্রি হয়েছে। অভিযোগ এবং প্রমাণ সামনে পেয়ে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এক ধাক্কায় ৩৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল করেছেন। ইতিমধ্যে ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে রাজ্য সরকার। গতকালই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তাঁকে ফোন করে মিনতি করছেন চাকরিহারারা। আর আজ তাঁদের দেখা গেল জাস্টিস গাঙ্গুলির এজলাসে।

আরও পড়ুনঃ দিলীপের বিতর্কিত মন্তব্যে ক্ষুব্ধ কুড়মি আন্দোলনকারীরা, ক্ষমা চাইলেন সুকান্ত!

মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে ভিড় করেছিলেন চাকরিহারা প্রাথমিক শিক্ষকেরা। বিচারপতির সঙ্গে মুখোমুখি কথা হয় তাঁদের। তাঁরা কাতরভাবে আবেদন জানান চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যে। বিচারপতি চাকরিহারাদের সাথে মুখোমুখি বসে কথা বলেন। এবং তাঁদের বুঝিয়ে দেন কেন তাঁদের চাকরি গিয়েছে। ঠিক কি কথোপকথন হল?

চাকরি যারা বিক্রি করেছেন তাঁদের কাছে যান, চাকরিহারাদের পরামর্শ বিচারপতির।

এক চাকরিহারা শিক্ষক বলেন, ‘স্যার আপনি আমাদের দেখুন। আমাদের পরিবার রয়েছে। এখন চাকরি বাতিল হলে কোথায় যাব? খাব কি?’ উত্তরে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ‘এই রায়ের উপর এখন আর কিছু করার নেই আমার। রায় ঘোষণা করা হয়ে গেলে কিছু না করার থাকে না। শুধুমাত্র সংশোধন করা যেতে পারে।’

তখন চাকরিহারা শিক্ষক কাতর ভাবে বিচারপতিকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তাহলে আমাদের কী হবে স্যার?’
বিচারপতি বলেন,আমি দুঃখিত আপনাদের অসুবিধার জন্য। কিন্তু কিছু করার নেই। এই নিয়োগের ছত্রে ছত্রে দুর্নীতি হয়েছে। কোনও একটা-দুটো কারণ নয়। যিনি মামলা করেছেন, তিনি অপ্রশিক্ষিতদের বিষয়টি উত্থাপন করে মামলা করেছেন। তাই আমার এই রায়। প্রশিক্ষিতদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই এই মামলায়। আমার রায় নিয়ে আপত্তি থাকলে উচ্চতর বেঞ্চে আবেদন করুন।’

চাকরি যারা বিক্রি করেছেন তাঁদের কাছে যান, চাকরিহারাদের পরামর্শ বিচারপতির।

Calcutta highcourt 11

এক শিক্ষিকা বলেন, ‘আপনিই দেখুন আমাদের বিষয়টি। আমরা তো কোনও অন্যায় করিনি। তা হলে আমাদের কী হবে?’ বিচারপতি তখন জবাব দেন, ‘রায় ঘোষণা করা মানে এখন বিষয়টি আমার হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। আমাকে বাধ্য করবেন না। আমি মন্তব্য করলে রাজনৈতিক বক্তব্য হয়ে যাবে। কারণ, একটা বা দুটো নয়। এতটাই বেআইনি ভাবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়েছিল যা অকল্পনীয়। কত দুর্নীতির কথা বলব? প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে।’

বিচারপতির জবার শুনে চুপ করে থাকেন চাকরিহারারা। বিচারপতি বলেন, ‘ঝাঁকে ঝাঁকে চাকরি বিক্রি হয়েছে। ওই দালালদের কাছে এত কোটি কোটি টাকা কোথা থেকে এল? যাঁরা দোষী, তাঁদের কাছে গিয়ে বলুন। হাজারে হাজারে চাকরি বিক্রি হয়েছে। আমার কাছে বলে লাভ নেই।’

চাকরি যারা বিক্রি করেছেন তাঁদের কাছে যান, চাকরিহারাদের পরামর্শ বিচারপতির।
চাকরি যারা বিক্রি করেছেন তাঁদের কাছে যান, চাকরিহারাদের পরামর্শ বিচারপতির।

এক শিক্ষিকা বলেন, ‘আমরাও চাই দোষীদের শাস্তি হোক। কিন্তু আমাদের কী হবে? আমরা তো যোগ্য।’ বিচারপতি বলেন, ‘আপনারা যোগ্য হলে আবার সুযোগ পাবেন। আমি তো আপনাদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছি না। নতুন করে এই নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলে সমস্ত যোগ্যরাই সুযোগ পাবেন। আগে এত বেশি দুর্নীতি হয়েছে যে, এখান থেকে আর মুড়ি থেকে মিছরি আলাদা করা যাবে না। আপনারা চাইলে ডিভিশন বেঞ্চে যেতে পারেন। আমার আর এখন কিছু করার নেই।’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত