নজরবন্দি ব্যুরো: নিজের বিধানসভা কেন্দ্র পাণ্ডবেশ্বরে তৃণমূলের সভায় আমন্ত্রণ পেলেন না জিতেন্দ্র তিওয়ারি। আমন্ত্রণপত্রে নাম রয়েছে তৃণমূলের জেলার নেতাদের। কিন্তু নাম নেই খোদ বিধায়কের। উচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশেই সব হয়েছে, দাবি জেলা সভানেত্রীর। আর এই নাম না থাকাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে আবারও জল্পনা। এইনিয়ে জেলা সভানেত্রীর দাবি,” জরুরি নয় যে কার্ডে নাম থাকতেই হবে।“
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ফের হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, আগুন ধরাল উন্মত্ত জনতা, গোটা দেশজুড়ে নিন্দার ঝড়
পাল্টা জিতেন্দ্র তিওয়ারি জানাচ্ছেন, যেহেতু তিনি তাঁর অধিকাংশ পদ থেকেই ইস্তফা দিয়েছেন সেকারণে তৃণমূলের জেলাস্তরের নেতৃত্বের মনোবলে আঘাত লেগে থাকতে পারে। সেই কারণে এমন কাজ করে থাকতে পারেন। সেই মনোবল ফেরানোর জন্য এবং তিনি যে তৃণমূলে আছেন সেই বিশ্বাস ফেরাতে আগামীদিনে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি তাঁকে করতে হবে বলে জানাচ্ছেন তিনি। বেশ কয়েকদিন আগেই অমিত শাহের সভাতে শুভেন্দুর সঙ্গে জিতেন্দ্রর গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানো নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে জল্পনা চরমে উঠেছিল। এমনকি জিতেন্দ্র তিওয়ারী আসানসোল পুরপ্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফাও দিয়েছিলেন।
সেইসময় উত্তরবঙ্গ সফরে থাকাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে মাথা ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দিলেও তিনি তাঁকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় জোর চর্চা। কিন্তু জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিজেপি তে যোগ দেওয়া নিয়ে বিস্ফারক মন্তব্য করে বসেন বিজেপি মহিলা মোর্চা রাজ্য সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও বাবুল সুপ্রিয়। অগ্নিমত্রা পাল আসানসোলের পুরপ্রশাসক সম্পর্কে মন্তব্য করেন, ‘আসানসোলের মানুষ জিতেন্দ্রকে পছন্দই করেন না।’ তাঁর কথায়, “শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপিতে স্বাগত কিন্তু জিতেন্দ্র তেওয়ারিকে আসানসোলের মানুষ পছন্দ করেন না, একদম পছন্দ করেন না।”
তিনি বলেন, “ওঁ বাবুল সুপ্রিয়কে সব থেকে বেশি হ্যাকেল করেছেন। বিরোধিতা করেছেন।” তবে জিতেন্দ্রকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে শীর্ষ নেতৃত্বই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান। এরপর আর গেরুয়া শিবিরে ভিড়তে দেখা যায়নি জিতেন্দ্রকে। উলটে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস আদায়ের চেষ্টা করেছেন তিনি। এমনকি গত মঙ্গলবার বাইপাসের একটি হোটেলেও তাঁকে সপরিবারে নৈশভোজ করতে দেখা যায়। সুতরাং আপাতত তিনি যে ঘাসফুলেই রয়েছেন, তার দাবিতে বারবার সরব হয়েছেন জিতেন্দ্র। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এব্যাপারে এখনও মুখ খোলেননি।



