নজরবন্দি ব্যুরো: ফের পাকিস্তানে হিন্দু মন্দিরে তান্ডব চালালো উন্মত্ত জনতা। মন্দির গুঁড়িয়ে আগুন ধরানোর অভিযোগ উঠল। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের রক্ষণশীল উত্তরপশ্চিম শহরে উগ্র ইসলামপন্থী দলের নেতৃত্বে একদল উন্মত্ত জনতা হিন্দুদের একটি মন্দির ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: ফের CBI-এর জালে রাঘববোয়াল, কয়লা-গরু পাচারকাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বাড়িতে হানা
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে খাইবার পাখতুনখওয়ার কারাক জেলায়। এদিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার নিন্দায় সোচ্চার হয়েছেন পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মীরা। এমনকি পাক মানবাধিকার মন্ত্রী শিরীন মাজারিও ঘটনার তীব্র নিন্দা করে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারে সংশ্লিষ্ট পুলিশ-প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
ঘটনার বিষয়ে জেলা পুলিশ অফিসার ইরফান মারওয়াট জানান, কারাক জেলার টেরি গ্রামে হিন্দুদের একটি মন্দির বুধবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যদিও বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানান, উগ্র ইসলামিক গোষ্ঠী জমিয়ত উলেমায়ে ইসলাম পার্টির লোকাল কিছু নেতার উপস্থিতিতে মন্দির ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, স্থানীয় হিন্দুরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে মন্দিরটির সংস্কারে হাত দিয়েছিলেন। কিন্তু, জমিয়তের নেতাদের তা পছন্দ হয়নি। তাই তাঁদের উস্কানিতে কয়েক’শো ধর্মীয় উন্মাদ মন্দিরে চড়াও হয়। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ওই এলাকায় উলেমায়ে ইসলাম-এফের একটি র্যালি ছিল। সেই পদযাত্রা থেকে বক্তারা প্ররোচনামূলক ভাষণ দিতে থাকেন। আর তাতেই প্ররোচিত হয়ে স্থানীয় কয়েক’শো
বাসিন্দা মন্দিরে চড়াও হয়।
পাকিস্তানে ফের হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, মন্দির ভাঙার জেরে এলাকায় প্রবল উত্তেজনা তৈরি হলে, ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। যদিও, অভিযুক্ত সংগঠনের আমির মওলনা আতাউর রহমান অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই।



