কয়েকদিন আগে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ঘাটালে রামনবমী পালন করেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী তথা অভিনেতা দেব। রাম মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেছিলেন। তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি। এনিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। বিজেপির নেতারাই ধর্ম প্রসঙ্গ তুলে কড়া আক্রমণ শানিয়েছিলেন। যদিও দেব জানিয়েছিলেন, রাম কোনও রাজনৈতিক দলের নয়। যে কেউ তাঁর নাম নিতে পারে। এবার উত্তরবঙ্গে গিয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানের (Jay Shree Ram Slogan) মুখে পড়তে হল তৃণমূল প্রার্থীকে। নিজে থেকেই স্লোগান দেওয়া ব্যক্তির দিকে এগিয়ে গেলেন? এরপর কী করলেন তিনি?

আরও পড়ুন: ‘বিধানসভায় তৃণমূলের বিপক্ষে ভোট দেবেন’, লোকসভার প্রচারে কেন এই কথা বললেন অভিষেক?
মঙ্গলবার দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে উত্তরবঙ্গে আসেন ঘাটালের দুবারের তারকা সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব (Dev)। এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসার সময় শুরু হয় জয় শ্রী রাম স্লোগান। স্লোগান দেওয়া ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান ঘাটালের তারকা প্রার্থী। হাসিমুখে হাত মেলান তাঁর সঙ্গে। আলিঙ্গন করেন। তিনি বলেন, ‘আমার ১০ বছর হয়ে গেল রাজনীতিতে। রামনবমীতে জয় শ্রীরাম বলতে অসুবিধা নেই। রাম আমার ঈশ্বর। আমরা ভারতবাসী, শুধু হিন্দু বলব না। ভারতবাসীকে ধর্ম শেখাতে যাবেন না।’

স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দেব বলেন, ‘উনি বিজেপি বলব না। সবচেয়ে বড় পরিচয় উনি ভারতবাসী। আমরাই বিভাজন করে রেখেছি। আমরা হিন্দু-মুসলিম, তৃণমূল-বিজেপি, গরীব-বড়লোক, ওর দোষ না, বড় বড় লোকেরা এভাবে বিভাজন করে রাখে। সবাই ভারতীয়। যেই জিতুক না কেন আমরা চাই ভারত দেশটা যেন উন্নতি করে।’
উত্তরবঙ্গে দেবকে দেখেই ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি, স্লোগান দেওয়া ব্যক্তির সঙ্গে যা করলেন তৃণমূল প্রার্থী

গত বুধবার রামনবমীর (Ram Navami) দিন দেব রাম মন্দিরে পুজো দিয়ে বলেছিলেন, ‘জয় শ্রী রাম, জয় জয় সীতা রাম।’ এনিয়ে আক্রমণ করে ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee) বলেছিলেন, ‘এরা রাজনীতির জন্য ধর্ম বদলে দেয়। ভোটের জন্য যে কোনও ধর্মে ঢুকে যেতে পারে।’ পাল্টা দেব বলেছিলেন, ‘বিজেপি প্রার্থী যদি ইফতার পার্টিতে যেতে পারেন, আমিও রামনবমী পালন করতে পারি।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘আমি পুজো করব কি করব না সেটা কি বিজেপির অনুমতি নিয়ে করতে হবে? রাম কি বিজেপির পতাকা নিয়ে জন্মেছিলেন?’ দেবের কথায়, ‘বাংলায় বারো মাসে তেরো পার্বণ। ধর্মের রাজনীতি কারা করছে সেটা আমার কাছে পরিষ্কার। সবথেকে বড় কথা, জনপ্রতিনিধির কোনও ধর্ম হওয়া উচিৎ না তাঁদের একটাই ধর্ম হওয়া উচিৎ মানব ধর্ম।’



