নজরবন্দি ব্যুরো: যাবতীয় জল্পনার অবসান। মেসির বিরুদ্ধে খেলা বিশ্বকাপার এবার মোহনবাগানে। অবশেষে সবুজ মেরুন জার্সিকেই বেছে নিলেন অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাইকার জেসন কামিন্স। কাতার বিশ্বকাপেও তিনি ছিলেন অজিদের দলে। খেলেছেন আর্জেন্টিনা তথা মেসির বিরুদ্ধেও। কামিন্সকে সই করাতে পেরে যেমন খুশি মোহনবাগান ক্লাব কর্তারা, তেমনই উচ্ছ্বসিত সমর্থকরাও।
আরও পড়ুন: লর্ডসে এগিয়ে থেকে শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া, স্পিনার ছাড়াই নামতে পারে ইংল্যান্ড


আগামী ৩ বছর সবুজ মেরুন জার্সিতেই খেলবেন জেসন কামিন্স। দলবদলের বাজারে তাঁকে নিয়ে টানাটানি অবশ্য কম হয়নি। মুম্বই সিটি এফসিও চেয়েছিল কামিন্সকে তাঁদের দলে সামিল করতে। কিন্তু কাতারে বিশ্বকাপ চলাকালীনই তাঁর সঙ্গে কথা হয় মোহনবাগান কর্তাদের। কামিন্সকে পেতে হলে দিতে হত মোটা অঙ্কের ট্রান্সফার ফি। আর তা দিতেও রাজি হয় সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দল। ফলে আইএসএলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টসের হয়েই খেলবেন কামিন্স। কিন্তু, কে এই জেসন কামিন্স? কলকাতার মানুষ কতটুকুই বা জানেন তাঁর সম্বন্ধে?
Jason Cummings is here. 💚♥️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/azBPIPq2W2
— Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) June 28, 2023
বছর আঠাশের জেসন কামিন্স বর্তমানে খেলেন সেন্টার কোস্ট মেরিনার্সের হয়ে। এবার সেখান থেকেই কলকাতা ময়দানে আসবেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেললেও কামিন্সের জন্ম কিন্তু স্কটল্যান্ডে। এর আগে তিনি খেলেছেন হিবার্নিয়ান, নটিংহ্যাম ফরেস্ট, রেঞ্জার্স, পিটারবুর্গ ইউনাইটেড, লুটন টাউন, শ্রিউসবেরি টাউন, ডান্ডি এবং সেন্টার কোস্ট মেরিনার্সের মতো ক্লাবে।

স্কটল্যাণ্ডের হয়ে অনুর্ধ্ব ১৯ ও অনুর্ধ্ব ২১ খেললেও এরপর তিনি পাড়ি দেন অস্ট্রেলিয়ায়। কারণ, তাঁর মায়ের জন্ম হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। সেই সূত্রেই হলুদ জার্সি গায়ে চাপান তিনি। যদিও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩টি ম্যাচ খেলেছেন কামিন্স। গোল করেছেন ১টি। সেটাও ২০২২ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে।

তবে, সেন্টার কোস্ট মেরিনার্স ক্লাবের হয়ে কিন্তু বিগত দু’বছরে দুরন্ত ফর্মে আছেন জেসন কামিন্স। দুই মরশুম মিলে ৪৯টি ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৩০টি। আর, সব মিলিয়ে আজ পর্যন্ত ৩৫৩টি ম্যাচ খেলে ১৪৫টি গোল রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, গত বছর কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলেন কামিন্স। গোল না পেলেও খুব খারাপ খেলেননি। ম্যাচের শেষে মেসির সঙ্গে জার্সি বিনিময়ও করেন তিনি। সাজঘরে একসঙ্গে ছবিও তোলেন। ফলে, কামিন্স আসায় মোহনবাগানের আক্রমণভাগ যে মজবুত হতে চলেছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

মোহনবাগানে সই করে জেসন কামিন্স বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে আমি ভারতীয় ক্লাব ফুটবলে নজর রেখেছিলাম। মোহনবাগান সম্পর্কেও আমি জানতাম। তবে যখন তারা প্রস্তাব দেয়, তখন আমি খোঁজ খবর নিতে শুরু করি। আমি জানতে পারি এই ক্লাব গত বছর আইএসএল চ্যাম্পিয়ন্স হয়েছে। এই বছর চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি থাকবে। আমি সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। আগামী তিন বছর ক্লাবকে সাফল্য এনে দেওয়াই আমার টার্গেট’।
মেসির বিরুদ্ধে খেলা বিশ্বকাপার এবার মোহনবাগানে, কে এই জেসন কামিন্স?










