ইটবৃষ্টি–হামলার জেরে বাতিল জেমসের কনসার্ট? ফরিদপুরে কী ঘটেছিল, ব্যাখ্যা দিল জেলা প্রশাসন

ফরিদপুরে ইটবৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলার জেরে জেমসের কনসার্ট বাতিল, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ব্যাখ্যা জেলা প্রশাসনের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশে ফের আলোচনার কেন্দ্রে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নিরাপত্তা। রক তারকা জেমস–এর বহুল প্রতীক্ষিত কনসার্ট বাতিল হওয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ইটবৃষ্টি, হামলা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগের মাঝেই ফরিদপুরের অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশ দেয় প্রশাসন। কেন শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত—তা নিয়ে মুখ খুলল জেলা প্রশাসন, যদিও তাতে সব প্রশ্নের উত্তর মিলছে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

শুক্রবার ফরিদপুর জেলা স্কুলের মাঠে জেমস ও তাঁর ব্যান্ড নগরবাউল–এর কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ‘বহিরাগত’ কিছু লোক অনুষ্ঠানস্থলে হামলা চালায়, শুরু হয় ইট-পাটকেল ছোড়া। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশৃঙ্খলা। শেষ পর্যন্ত কনসার্ট বাতিলের নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এটি কি শুধুই নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে?

এই প্রসঙ্গে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, অনুষ্ঠানটি ছিল ফরিদপুর জেলা স্কুলের নিজস্ব আয়োজন এবং মাঠের পরিসর তুলনামূলক ছোট। তাঁর দাবি, স্কুল চত্বরে জায়গা না পেয়ে বাইরে বিপুল ভিড় জমে যায়। সেই বহিরাগতদের একাংশ ভিতরে ঢুকতে না পেরে ইট-পাটকেল ছোড়ে। জেলা প্রশাসক স্বীকার করেন, ওই সময় স্কুলপড়ুয়া ও বহিরাগতদের মধ্যে ‘হালকা মারামারি’ও হয়। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কনসার্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

তবে এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও বিতর্ক থামেনি। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত। তরুণ নেতা ওসমান হাদি–র মৃত্যুর পর বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে ছায়ানটউদীচী–র মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও। সেই আবহে জেমসের কনসার্ট বাতিল হওয়ায় অনেকে ঘটনাটিকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখছেন।

যদিও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বা সামাজিক অস্থিরতার কোনও যোগ নেই। কামরুল হাসানের দাবি, জেমসের কনসার্টের আগের দিন একই জায়গায় আর একটি বাংলা ব্যান্ডের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে হয়েছে। সমস্যা তৈরি হয়েছে শুধুমাত্র বহিরাগত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার ফলেই।

এই ঘটনার পর মুখ খুলেছেন জেমস নিজেও। তাঁর মতে, পুরো বিষয়টি আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার ফল। ব্যান্ডের মুখপাত্র রুবাইয়াৎ ঠাকুর জানান, বিশৃঙ্খলা শুরু হওয়ার সময় শিল্পী ও ব্যান্ড সদস্যরা গেস্ট হাউসে ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তাঁদের জানানো হয়, অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। এরপরই তাঁরা ঢাকায় ফিরে যান।

সব মিলিয়ে, ফরিদপুরের এই ঘটনা শুধু একটি কনসার্ট বাতিলের খবর নয়—বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে টানাপোড়েনের নতুন উদাহরণ বলেই মনে করছেন অনেকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন