বছর শেষের আগেই ৩ ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা! ৪৪ বছরের গড়ের চেয়ে বেশি শক্তির ইঙ্গিত ISRO-র

অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬-এ উত্তর ভারত মহাসাগরে প্রায় তিনটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য ঝড়ের তীব্রতার সূচক ৪৪ বছরের গড়ের তুলনায় বেশি হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: বছরের শেষ তিন মাসে একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা নিয়ে সামনে এল বড় পূর্বাভাস। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় তিনটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে বলে একটি seasonal forecast-এ ইঙ্গিত মিলেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ, সম্ভাব্য ঝড়গুলির সামগ্রিক তীব্রতার সূচক দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি হতে পারে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাসকে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (Indian Space Research Organisation) বা ISRO-র সঙ্গে যুক্ত seasonal analysis হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্বে High Speed Intensity Index গত ৪৪ বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি হতে পারে। অর্থাৎ শুধু ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা নয়, সম্ভাব্য ঝড়ের শক্তি ও স্থায়িত্ব নিয়েও নজরদারি প্রয়োজন।

তবে এই পূর্বাভাসের অর্থ এই নয় যে আগামী তিন মাসে নির্দিষ্ট তিনটি ভয়ঙ্কর ঝড় কোন তারিখে তৈরি হবে বা কোথায় আছড়ে পড়বে, তা এখনই জানা গিয়েছে। Seasonal forecast মূলত একটি নির্দিষ্ট সময়পর্বে ঘূর্ণিঝড়ের সামগ্রিক প্রবণতা বোঝায়। নির্দিষ্ট কোনও ঝড়ের গতিপথ, landfall বা সতর্কতা জানতে পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া দফতরের নিয়মিত পূর্বাভাসের উপরই নির্ভর করতে হবে।

এই হিসাব তৈরির ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৮০-র দশক থেকে পাওয়া আবহাওয়াগত তথ্যের পাশাপাশি সমুদ্রের পরিস্থিতি এবং ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি থেকে অগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অক্টোবর-ডিসেম্বরের post-monsoon cyclone activity সম্পর্কে এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে।

এখানে High Speed Intensity Index-টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই সূচকে ঝড়ের বাতাসের গতি এবং কতক্ষণ তা শক্তিশালী অবস্থায় থাকতে পারে—এই ধরনের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে সূচক যত বেশি, সংশ্লিষ্ট সময়পর্বে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়গুলির সামগ্রিক শক্তির প্রবণতাও তত বেশি বলে ধরা হয়। তবে এই সূচককে কোনও নির্দিষ্ট ঝড়ের Category বা সর্বোচ্চ বাতাসের গতির সঙ্গে সরাসরি এক করে দেখা উচিত নয়।

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এমনিতেই উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। ISRO-র প্রকাশিত তথ্যেও ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলকে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বরকে ঘূর্ণিঝড়ের অন্যতম সক্রিয় সময় বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে আরব সাগরের তুলনায় বেশি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার প্রবণতার কথাও সংস্থার cyclone monitoring সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে রয়েছে।

এই পূর্বাভাস সামনে আসার সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরে Hurricane Lowell নিয়েও আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। হাওয়াইকে প্রভাবিত করা Lowell এক পর্যায়ে অত্যন্ত শক্তিশালী hurricane-এ পরিণত হয়েছিল। তবে Lowell-এর পরিস্থিতি এবং উত্তর ভারত মহাসাগরের সম্ভাব্য cyclone activity—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা আবহাওয়াগত ঘটনা; একটির সঙ্গে অন্যটির সরাসরি সম্পর্ক ধরে নেওয়ার কারণ নেই।

বরং ভারতীয় উপকূলের জন্য এই seasonal forecast-এর গুরুত্ব অন্য জায়গায়। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর সংলগ্ন উপকূলবর্তী এলাকায় প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং মৎস্যজীবীদের আগাম প্রস্তুতির জন্য এমন দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস সহায়ক হতে পারে। সম্ভাব্য ঝড়ের সক্রিয়তা বেশি হওয়ার ইঙ্গিত থাকলে উদ্ধারকারী দল, আশ্রয়কেন্দ্র এবং জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতিও আগে থেকে পর্যালোচনা করা যায়।

তবে এই মুহূর্তে কোনও নির্দিষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম, আছড়ে পড়ার দিন বা ভারতের কোনও নির্দিষ্ট উপকূলকে লক্ষ্য করে সতর্কতা জারি হয়নি। তাই আতঙ্কের বদলে নজরদারি ও প্রস্তুতিকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আগামী কয়েক সপ্তাহে সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি বদলালে সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া সংস্থাগুলির পূর্বাভাসেও তার প্রতিফলন দেখা যাবে।

অর্থাৎ, ২০২৬-এর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরকে ঘিরে বার্তাটি সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট দুর্যোগের ঘোষণা নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে উত্তর ভারত মহাসাগরে স্বাভাবিকের তুলনায় সক্রিয় এবং শক্তিশালী cyclone season-এর সম্ভাবনার ইঙ্গিত। উপকূলবর্তী এলাকার জন্য এখন থেকেই সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে প্রস্তুত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন