নজরবন্দি ব্যুরো: রাজস্থানের জয়পুরে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুকে ঘিরে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠল। করধনী থানা এলাকার গোবিন্দপুরা অঞ্চলে ৪০ বছরের গীতা ঝা এবং তাঁর তিন মেয়ে নন্দিনী, গিরিশা ও রাধিকার দেহ উদ্ধার হয়েছে শুক্রবার সকালে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ, ঘুমের মধ্যেই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছিল।
এই ঘটনায় পরিবারের কর্তা রাহুল ঝায়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি ইটও উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাতে ওই বাড়ি থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু শুক্রবার সকালে বাড়ির ভিতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না মেলায় তাঁদের সন্দেহ হয়। কয়েকজন প্রতিবেশী বাড়ির সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির ভিতর চারজনের দেহ পড়ে থাকতে দেখে। প্রত্যেকের মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মৃত গীতা ঝার বয়স ৪০ বছর। তাঁর তিন মেয়ের বয়স ১৭ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে জানানো হয়েছে। একই বাড়িতে অভিযুক্তের ৮৫ বছরের বাবাও ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ঘটনার বিষয়ে তাঁর কাছ থেকেও তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
হত্যার পিছনে পারিবারিক বিবাদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে পারিবারিক অশান্তির সম্ভাবনা তদন্তে রাখা হলেও, ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই রাহুল ঝায়ের মোবাইল ফোনেরও সন্ধান মিলছে না বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে খুঁজতে বিশেষ পুলিশ দল কাজ করছে। জয়পুরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশির পাশাপাশি শহরে ঢোকা ও বেরোনোর পথগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় গোবিন্দপুরা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তবে অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে দেখছে না তদন্তকারী সংস্থা। ময়নাতদন্ত, ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণ ছবি স্পষ্ট হবে।



