নতুন রণনীতি নিচ্ছে জৈশ-ই-মহম্মদ, তৈরি হচ্ছে মহিলা জঙ্গি বাহিনী, টার্গেট ভারত

প্রথমবার মহিলা জঙ্গি ব্রিগেড গড়ল জৈশ-ই-মহম্মদ, নেতৃত্বে মাসুদ আজহারের বোন

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে। অপারেশন সিঁদুর-এর পর বাহওয়ালপুরে তাদের ঘাঁটি ভেঙে দেওয়া হলেও, পাকিস্তান প্রশাসনের সহায়তায় সংগঠনটি আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এবার আরও ভয়ঙ্কর চিত্র সামনে এল — প্রথমবারের মতো নিজেদের মহিলা জঙ্গি ব্রিগেড (Female Terror Brigade) গঠন করছে জৈশ।

সংগঠনের এই নতুন শাখার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জামাত-উল-মোমিনাত (Jamaat-ul-Mominat)’, যা সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে কার্যকলাপে অংশ নেবে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। এ পর্যন্ত জৈশ মহিলাদের কোনও সশস্ত্র অভিযানে যুক্ত করেনি। এবার সেই ঐতিহ্য ভেঙেই শুরু হচ্ছে এক নতুন অধ্যায়।

জৈশ-ই-মহম্মদের মহিলা ব্রিগেডের নেতৃত্বে কে?
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মহিলা ব্রিগেডের নেতৃত্বে রয়েছেন মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার (Saadia Azhar)। তাঁকে আগেই রাষ্ট্রপুঞ্জের পক্ষ থেকে জঙ্গি হিসেবে ঘোষিত করা হয়েছিল। তাঁর স্বামী ইউসুফ আজহার ছিলেন জৈশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ নেতা। ২০১৯ সালে ভারতের অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor)-এর সময় বাহওয়ালপুরে জৈশের সদর দফতরে হামলায় ইউসুফের মৃত্যু হয়।

সেই ঘটনার পর থেকেই সাদিয়া আজহার সংগঠনের নেতৃত্বে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। এবার তাঁর হাত ধরেই শুরু হচ্ছে জৈশের মহিলা ইউনিটের নিয়োগ। জানা গিয়েছে, বাহওয়ালপুরের মরকজ উসমান-ও-আলি থেকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কাদের নেওয়া হচ্ছে এই মহিলা ব্রিগেডে?
সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই জৈশের হয়ে সক্রিয় জঙ্গিদের স্ত্রীদের ডাকা হচ্ছে এই নতুন ইউনিটে। যেসব জঙ্গি মারা গিয়েছে, তাদের পরিবারের মহিলাদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্রিগেডে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বাহওয়ালপুর, করাচি, কোটলি ও হরিপুরের মতো অঞ্চলে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের মেয়েদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের মগজধোলাই করে জঙ্গি প্রশিক্ষণ (Terror Training) দেওয়া হবে।

জৈশের নতুন কৌশল ও ভারতের প্রতি হুমকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মহিলা জঙ্গি ব্রিগেডের মূল লক্ষ্য ভারত। জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের কিছু অঞ্চল-কে টার্গেট করে অনলাইন প্রচার চালাতে পারে তারা। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ধর্মীয় প্রচারণার আড়ালে যুবতী ও শিক্ষিত মহিলাদের মগজধোলাই করার চেষ্টা চালাবে এই সংগঠন।

একাধিক সন্ত্রাস বিশ্লেষক মনে করছেন, “জৈশ এবার ISIS ও Boko Haram-এর মতো সংগঠনের পথে হাঁটছে।” এই সংগঠনগুলির মতোই নারীদের আত্মঘাতী জঙ্গি বা প্রচারক হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

বিশ্ব জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে নারী ইউনিটের ইতিহাস
ISIS, Boko Haram, Hamas ও LTTE অতীতে মহিলাদের সশস্ত্র অভিযানে ব্যবহার করেছে। তবে এতদিন জৈশ-ই-মহম্মদ (JeM)লস্কর-ই-তইবা (LeT) এই ধারা এড়িয়ে চলেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মদতে জৈশ তার পুরনো কৌশল বদল করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিঁদুরে ধাক্কা খাওয়ার পর সংগঠনটি নিজেদের পুনর্গঠন করছে। এবার সেই পুনর্গঠনের কেন্দ্রবিন্দু মহিলা জঙ্গি বাহিনী। ভারতীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন, এটি ভারতের নিরাপত্তার জন্য নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতে একাধিক বড় জঙ্গি হামলার পেছনে জৈশ-ই-মহম্মদের নাম রয়েছে — ২০০১ সালের সংসদ হামলা (Parliament Attack) এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলা (Pulwama Attack) তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। তাই এই মহিলা ইউনিট গঠনের খবর গোয়েন্দাদের নজরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের মতে, “মহিলাদের ব্যবহার করে নতুন ধরণের ‘আন্ডারকভার নেটওয়ার্ক’ তৈরি করতে চাইছে জৈশ। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম আরও কঠিন হবে।”

জৈশ-ই-মহম্মদের এই নতুন পরিকল্পনা শুধু পাকিস্তানের নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত