নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা পেরিয়েছে ২১ দিন। অথচ এখনও সিসিটিভি বসানো নিয়ে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিতে পারল না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজও ছাত্র সংগঠন, অধ্যাপক, গবেষক, কর্মী এবং কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। কিন্তু সেখানেও চূড়ান্ত করা যায়নি ক্যামেরা বসানোর দিনক্ষণ।
আরও পড়ুন: গ্রেফতার দত্তপুকুরের অবৈধ বাজি কারবারের মূল পান্ডা, আটদিনের পুলিশ হেফাজত
কেন সিসিটিভি বসানো নিয়ে এত টালবাহান চলছে? আসলে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে গেলে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করতে হয়। শুধু যাদবপুর বলে নয় সব জায়গাতেই একই নিয়ম। তো, এই স্টেক হোল্ডারদের মধ্যে রয়েছে ছাত্র সংগঠন। তাঁরা জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথায় কোথায় ক্যামেরা বসবে এবং তা কে নিয়ন্ত্রণ করবে সেটি লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তবে, এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে তা জানানো হয়নি।

এই বিষয়ে রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু জানিয়েছেন, “আজই সবার সাথে বৈঠক হয়েছে। ছাত্ররা যা জানতে চেয়েছে তা তাদেরশীঘ্রই জানানো হবে। তবে, সিসিটিভি কবে বসবে তা বলা সম্ভব নয়। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেলে বসতে সময় লাগবে না আশা করি।“ কর্তৃপক্ষের তরফে আগেই বেশ কিছু ‘স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্ট’ স্থির করা হয় যেখানে যেখানে ক্যামেরা বসানো উচিত। তা নিয়ে আলোচনা এখনও শেষ হয়নি বলেই জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার।

প্রসঙ্গত, বিগত ৯ অগস্ট হস্টেলের ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় এক প্রথম বর্ষের ছাত্রের। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। র্যাগিংয়ের কারণেই ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল বলে পুলিশ কার্যত নিশ্চিত।
বারবার বৈঠকই সার, ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা ২১ দিন পেরোলেও যাদবপুরে এখনও বসল না সিসিটিভি!
এই ঘটনার পর থেকেই উত্তাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। যেহেতু সেখানে বাম ছাত্র সংগঠন ক্ষমতায় আছে তাই তাঁদের বিরুদ্ধে তুলছে বিরোধী সংগঠনগুলি। তৎপর হয়েছে শিশু সুরক্ষা কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশন। ইউজিসি-র নিয়ম অনুযায়ী ক্যাম্পাসে যে সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার কথা তা যাদবপুরেছিল না। সেই কারণে সমালোচনায় পড়তে হচ্ছে রাজ্যের প্রথম সারির এই বিশ্ববিদ্যালয়কে।




