বুধবার রাতের সংঘর্ষের রেশ কাটার আগেই বৃহস্পতিবার ফের উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। ABVP ও SFI-এর পৃথক মিছিলকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ও ভিতরে একাধিক জায়গায় উত্তেজনা ছড়ায়। দুই পক্ষের মিছিল মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতেই পুলিশ ঢাকুরিয়া ব্রিজ ও এইট বি-র কাছে ব্যারিকেড করে কর্মসূচি আটকে দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পতাকা তোলা ঘিরে দুই ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে ফের বচসা ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এইট বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে ABVP-র কয়েকজন সদস্য জমায়েত করেন। সংগঠনের মূল কর্মসূচি ছিল গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মিছিল। অন্যদিকে, SFI-এর রাজ্য সভাপতি দেবাঞ্জন দে (Debanjan Dey)-র নেতৃত্বে কর্মী-সমর্থকরাও এইট বি এলাকায় জমায়েত শুরু করেন।
পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, সে জন্য আগেভাগেই পুলিশি প্রস্তুতি ছিল। দুপুরে গোলপার্ক থেকে ABVP-র মিছিল যাদবপুরের দিকে রওনা হলে ঢাকুরিয়া ব্রিজের কাছে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়। অভিযোগ, মিছিলের একাংশ ব্যারিকেড সরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বচসাও হয়।
অন্যদিকে, এইট বি থেকে SFI-এর মিছিলও বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে এগোনোর চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশি ব্যারিকেডে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। ফলে একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রান্তে দুই ছাত্র সংগঠনের জমায়েতকে ঘিরে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়।
এর মধ্যেই এইট বি এলাকায় আগে থেকে থাকা ABVP-র কয়েকজন সদস্য হেঁটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে পৌঁছে যান। সেখানে সংগঠনের পতাকা ওড়ানো হয়। সেই পতাকা তোলার প্রতিবাদ করেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন সদস্য। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরেও এ দিন প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও (AIDSO)-র সদস্যরা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ করেন। ফলে বাইরে ABVP ও SFI-এর পালটা মিছিল এবং ভিতরে বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি—সব মিলিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের পরিস্থিতি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত অবশ্য বুধবার রাতের ঘটনা থেকেই। ফেটসু (FETSU)-র জেনারেল বডি মিটিংকে কেন্দ্র করে অরবিন্দ ভবনে প্রথমে বচসা এবং পরে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। ABVP-র দাবি, নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকা অবস্থায় কী ভাবে এই ধরনের GB Meeting ডাকা হল, সেই প্রশ্ন তুলতেই তাঁদের সদস্যদের উপর হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, FETSU এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির পালটা অভিযোগ, ABVP-র সদস্যরাই বৈঠকে ঢুকে হামলা চালান এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন। রাতের সংঘর্ষে ABVP-র কয়েকজন সদস্য আহত হন বলে সংগঠনের দাবি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদেই বৃহস্পতিবার পৃথক কর্মসূচির ডাক দেয় দুই পক্ষ। SFI-এর তরফে এইট বি-তে জমায়েত ও মিছিলের কর্মসূচি নেওয়া হয়। পালটা ABVP-ও গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেয়। ফলে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দুই মিছিল যাতে মুখোমুখি না হয়, সেই চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে ABVP সদস্যদের জমায়েত এবং পতাকা তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়। বামপন্থী ছাত্রদের একাংশ তার বিরোধিতা করতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের ছাত্র রাজনীতির সংঘাত এ দিন যে ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট পেরিয়ে রাস্তায় এসে পড়েছে, তাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার রাতের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবারও একাধিক কর্মসূচিতে উত্তেজনা অব্যাহত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও দুই পক্ষের পালটা কর্মসূচির জেরে যাদবপুরে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।



