এবার ইসরোর লক্ষ্য শুক্র, শুরু ‘ভোম’ অভিযানের প্রস্তুতি, রওনা দেবে কবে?

এই মিশনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। যার মধ্যে উপযুক্ত মহাকাশযান তৈরিতে খরচ হবে ৮২৪ কোটি টাকা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ফের একবার ইতিহাস সৃষ্টি করার পথে ভারত! শুরু হয়ে গেল ‘ভেনাস অরবিটিং মিশন’ বা, সংক্ষেপে ‘ভোম’ অভিযানের প্রস্তুতি। ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর পরিকল্পনা ছিল পৃথিবীর দ্বিতীয় নিকটতম গ্রহ শুক্রে মহাকাশযান পাঠানো। ২০১৮ সালে এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা হলেও পরবর্তীতে চন্দ্রযান-৩ অভিযানে বিজ্ঞানীরা ব্যস্ত হয়ে পড়ায় এই পরিকল্পনা কিছুটা ধামাচাপা পড়ে যায়। অবশেষে বুধবার ‘ভোম’ অভিযানে অনুমোদন দিল কেন্দ্র সরকার।

ইসরো সূত্রে খবর, এই মিশনের জন্য ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানীরা মহাকাশযান তৈরীর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। বরাদ্দ করা হয়েছে ১ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। যার মধ্যে উপযুক্ত মহাকাশযান তৈরিতে খরচ হবে ৮২৪ কোটি টাকা। সব কিছু ঠিক থাকলে, ২০১৮ সালের মার্চে পৃথিবী থেকে শুক্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে ‘ভোম’ মহাকাশযান। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য, শুক্রের বায়ুমণ্ডল এবং ভূতত্ত্ব নিয়ে বিশদে পর্যালোচনা করা। বিজ্ঞানীদের মতে, হাজার হাজার বছর আগে কোনও এক সময় শুক্র ও পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক গঠন একই রকম ছিল। শুক্রের রূপান্তরের অন্তর্নিহিত কারণগুলি পর্যবেক্ষণের জন্য গ্রহের কক্ষপথে এই মহাকাশযানটিকে প্রদক্ষিণ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে একাধিক প্রজেক্ট রয়েছে ইসরোর হাতে। ভোম অভিযানের আগে এখন পুরোদমে চলছে চন্দ্রযান-৪-এর প্রস্তুতি। গত বছর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রথমবারের জন্য পা রেখে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর চন্দ্রযান-৩। চলতি বছর মার্চ মাসেই চন্দ্রযান-৪-এর পরিকল্পনা সামনে আনা হয়েছিল। বুধবার সেই কর্মসূচিতে ছাড়পত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইসরোর এই চতুর্থ চন্দ্রাভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লুনার পোলার এক্সপ্লোরেশন মিশন’ বা’ সংক্ষেপে লুপেক্স।

এই অভিযানে চন্দ্রযানটি কেবল চাঁদের মাটিতে অবতরণই করবে না, চাঁদের মাটিতে নেমে মেরু অঞ্চল সহ বিভিন্ন জায়গায় জলের খোঁজ করবে। চাঁদের মাটিতে খনিজ অনুসন্ধান ও নমুনা সংগ্রহ করবে। এরপর আবার চাঁদ থেকে ফের পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এই মিশন আদতেই অত্যন্ত কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ। ইসরোর কাছে এটা একটা বড়সড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও জানা গিয়েছে, ইসরোর তরফে ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন ‘ভারতীয় আন্তরীক্ষ স্টেশন’ তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে। তাছাড়া ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদের মাটিতে মানুষকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরোর বিজ্ঞানীদের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর