তেহরান-বেইরুটে ইজরায়েলের আঘাত, পালটা ইরান—চতুর্থ দিনে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও তীব্র

তেহরান ও বেইরুটে ইজরায়েলের হামলা, পালটা ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন আঘাত ইরানের; গাল্ফ জুড়ে উত্তেজনা, সীমাহীন অস্ত্রের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চতুর্থ দিনে পৌঁছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরে ইরানের রাজধানী Tehran-এ একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহর। একইসঙ্গে লেবাননের রাজধানী Beirut-এ গোলাবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইজরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানও। উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকতেই আরও বড় সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে পরপর বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তেহরানে। বহু মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। দাবি, ভোরের দিকে সেখানে বোমাবর্ষণ করেছে ইজরায়েলি সেনা। এখনও পর্যন্ত হতাহতের নির্দিষ্ট খবর মেলেনি। এ বিষয়ে তেল আভিভের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ হয়নি।

অন্যদিকে বেইরুটে হেজবোল্লা ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। শহরের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। লেবাননের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইজরায়েলের আঘাতের জবাবে ইরান পালটা অভিযান শুরু করেছে। Islamic Revolutionary Guard Corps দাবি করেছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরিনের শেখ ইসা অঞ্চলের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কে বিস্ফোরণের কথাও জানানো হয়েছে। প্রায় ২০টি বিমান ও ৩টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করেছে তারা, যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এদিকে ট্রাম্প তাঁর সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “আমাদের কাছে সীমাহীন অস্ত্রের মজুত রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত জারি রাখতে আমরা সক্ষম।” এই মন্তব্যকে অনেকেই সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।

গাল্ফ অঞ্চলে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক। Kuwait, United Arab Emirates, Qatar, Saudi Arabia এবং Bahrain থেকে জরুরি কাজে যুক্ত নন এমন মার্কিন নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে তৎপর ওয়াশিংটন।

প্রসঙ্গত, ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। রবিবার মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln-এর উপর হামলার দাবি ওঠে। সোমবার Abu Dhabi, Doha এবং Manama-য় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। যদিও বহু ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে, তবুও ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়েই একাধিক জায়গায় আগুন লেগেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন বহুমাত্রিক—ইজরায়েল-ইরান সরাসরি সংঘর্ষ, তার সঙ্গে যুক্ত আমেরিকার সক্রিয় ভূমিকা, এবং গাল্ফ দেশগুলিতে বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে আগামী ক’দিনের সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত