নজরবন্দি ব্যুরো: লোকসভায় বিজেপি বিরোধী জোটের পরিকল্পনা অনেকদিনের। কিন্তু কীভাবে জোটকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব তা নিয়ে টালবাহান চলেই যাচ্ছিল। তবে, এবার যেন মনে হচ্ছে জোটের সম্ভাবনা কিছুটা বাড়ছে। প্রথম থেকেই কংগ্রেসের সাথে একটা ঠাণ্ডা লড়াই চলছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আজ বেঙ্গালুরুতে বিরোধী জোটের বৈঠকে বসবার যে আসন ক্রম নির্ধারণ হয়েছে তা দেখলে কিন্তু মনে হতেই পারে, কংগ্রেসের সাথে দূরত্ব কমছে তৃণমূলের। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসেছেন একেবারে রাহুল গান্ধী ও সনিয়া গান্ধীর মাঝে।
আরও পড়ুন: কর্মীরা গুলি খাবে আর নেতারা ফিশ ফ্রাই! বাংলায় বাম-কংগ্রেসকে পাশে চাইছেন শুভেন্দু


আজ ২৬টি বিরোধী দল মিলে বেঙ্গালুরুতে আসন্ন লোকসভার আগে জোটের প্রস্তুতি নিতে বৈঠকে সামিল হয়েছে। সেখানে হাজির আছেন, সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকাআর্জুন খাড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শরদ পাওয়ার, সীতারাম ইয়েচুরি, লালু প্রসাদ যাদব, নীতিশ কুমারের মতো প্রধান সারির নেতারা । পাল্টা আবার ৩৮টি দল নিয়ে এনডিএ জোটের বৈঠক ডেকেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধী জোটকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘এঁদের দেখে একটা অউধি কবিতা মনে পড়ছে, এঁদের লেভেল এক রকম আর প্রোডাক্ট অন্যরকম। এঁরা দেশকে একটাই প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, তা হল লাগামহীন দুর্নীতি।’ আজ বিরোধী বৈঠকের পর কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লালায়িত নয়, বিজেপিকে হারানোই তাঁদের উদ্দেশ্য।
At the joint Opposition meeting in Bengaluru, Congress President Mallikarjun Kharge said – We are aware that at the state level, there are differences between some of us. These differences are not ideological. These differences are not so big that we cannot put them behind us for… pic.twitter.com/sCKTAGO0Cc
— ANI (@ANI) July 18, 2023
বিরোধী জোটের একটাই সমস্যা, বিভিন্ন রাজ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়লেও কেন্দ্রে বিজেপিকে হারাতে একজোট হতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে তৃণমূল স্তরের রাজনীতিতে। রাজ্যের একাধিক নির্বাচনে যে দলের বিরোধিতা করতে হচ্ছে তাঁদের সাথেই জোট বাঁধতে হচ্ছে। কিন্তু, বিজেপিকে হারাতে এছাড়া কোনও বিকল্প নেই বলেই জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে। সেক্ষেত্রে, বিভিন্ন রাজ্যের শাসক দলগুলিকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিরোধী দলরাও যদি সমর্থন করে তবে সেই রাজ্য পায় বিরোধী শূন্য অবস্থায় চলে যাবে। যেমন, ধরা যাক বাংলার কথা। নানান নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাম কংগ্রেস লড়াই করছে আবার লোকসভায় তাঁরাই একসাথে লড়বে! এটাকে বাস্তবায়ন করা সময়সাপেক্ষ এবং শর্তনির্ভর।

অন্যদিকে, বিরোধী জোটের কথা যখন সামনে আসে, নিজেদের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’-তে কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করেছিল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি ছিল তিনি বিরোধী জোটের প্রধান মুখ হতে চান। তবে, প্রধান মুখ কে হবেন তা এখনও নিশ্চিত না হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে কংগ্রেস একথা স্পষ্ট।
ফের কাছাকাছি দুই নেত্রী, ক্রমেই কংগ্রেসের সাথে দূরত্ব কমছে তৃণমূলের?










