ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে’—ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের পাল্টা হুঙ্কার, পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা

ট্রাম্পের হুমকি ও মার্কিন নৌবহর পাঠানোর জবাবে ইরানের কড়া বার্তা—সেনার আঙুল ট্রিগারে। পরমাণু চুক্তি ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে উত্তেজনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের মেঘ ঘনাচ্ছে। আমেরিকার তরফে হুঁশিয়ারির সুর চড়তেই কড়া বার্তা দিল তেহরান—কোনও হামলা হলে মুহূর্তে জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানের সেনা। সরাসরি নাম না করলেও ইঙ্গিত স্পষ্ট, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়াতেই এই হুঁশিয়ারি। উত্তেজনার কেন্দ্রে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি এবং পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি।

আমেরিকার ‘বড় নৌবহর’ পাঠানোর হুমকির পর ইরানের স্পষ্ট বার্তা—সেনার আঙুল ট্রিগারে। পরমাণু চুক্তি ঘিরে টানাপড়েনের মাঝেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।

Shamim Ahamed Ads

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি বুধবার স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বতোভাবে প্রস্তুত। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ট্রিগারে আঙুল রেখেই আছে। ইরানের ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা জলসীমায় কোনও আক্রমণ হলে সঙ্গে সঙ্গে জোরালো জবাব দেওয়া হবে।” যদিও তাঁর বক্তব্যে সরাসরি আমেরিকা বা ট্রাম্পের নাম উচ্চারিত হয়নি।

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়েই মূলত এই উত্তেজনা। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইরানে খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থনও জানিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার জলসীমায় পৌঁছে গিয়েছে মার্কিন রণতরী USS Abraham Lincoln—যা যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম।

আরঘচি অবশ্য আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি। তিনি জানিয়েছেন, ন্যায্য ও পক্ষপাতহীন কোনও পরমাণু চুক্তিতে আলোচনায় বসতে ইরান প্রস্তুত। তবে সেই চুক্তিতে যেন কোনও চাপ, হুমকি বা জোরজবরদস্তি না থাকে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ইরান কোনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, কিন্তু শান্তিপূর্ণ প্রয়োজনে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার তারা ছাড়বে না।

এই পরমাণু কর্মসূচি নিয়েই গত বছর সংঘর্ষে জড়িয়েছিল ইরান ও ইজ়রায়েল। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-র অভিযোগ, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে। একই সন্দেহ থেকে তখন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে আমেরিকা-ও। বোমারু বিমান পাঠিয়ে ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছিল বলে দাবি ওঠে।

এমন আবহে ট্রাম্প সম্প্রতি ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য ইরানের হাতে সময় ফুরিয়ে আসছে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাম না করেই পাল্টা বার্তা দিল তেহরান—যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত তারা। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আশঙ্কা নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত